গ্রামে ডাক ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে নবনির্মিত পোস্ট অফিসের উদ্বোধন | শহরে পাঁচটি বিদ্যালয়ের সম্মান প্রাপ্তি


1
গ্রামে ডাক ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে নবনির্মিত পোস্ট অফিসের উদ্বোধন

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক।সময়কালটা মোবাইল, ল্যাপটপ, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক-এর যুগ, এমনটাই বলছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। চিঠি লেখা, বিজয়া কিংবা নববর্ষে কার্ড পাঠানো বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনেকটাই প্রাচীন। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকার পর পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়র গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গুইর ডাকঘরের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন হলো। ফিতে কেটে এই নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম এবং জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়। মূলত স্থানীয় কৈয়র গ্রাম পঞ্চায়েত ও গুইর গ্রামবাসীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই নতুন ডাকঘরের ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে এই উদ্যোগ সার্থক হওয়ায় খুশি স্থানীয় মানুষরাও।
এ প্রসঙ্গে অপার্থিব ইসলাম বলেন, মূলত ডাক ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই ধরনের অফিস ভবনগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নেই। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এখানে প্রাচীন এই ডাকঘরটি বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় পোস্ট মাস্টারের আবেদন ও সদিচ্ছা এবং গ্রামবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা এই প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তুলতে পেরেছে। স্থানীয় কৈয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বনাথ রায় বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ডাকঘরটি অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় ছিল। নানাভাবে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। স্থানীয় মানুষজন এখান থেকে নিয়মিত পরিষেবা নিতে আসেন, ব্যাংকিং পরিষেবার মতো টাকা পয়সার লেনদেনও হয়। অথচ এই ডাকঘরের পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় তাদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করতো। এবার থেকে সেই ভয় দূর হবে।

স্থানীয় কৈয়র গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাহাজাহান মন্ডল বলেন, গ্রামবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতায় এই কাজ করার ক্ষেত্রে তারা একটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন। এরজন্য তারা সকলেই গর্ববোধ করছেন। ভারতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাচীন এই মাধ্যম অর্থাৎ চিঠিপত্রের আদান-প্রদান আজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পোস্ট মাস্টার চন্দ্রিমা মন্ডল। তিনিও অত্যন্ত খুশি এইভাবে একটি নতুন ভবনে কাজ করার সুযোগ পেয়ে।

2
শহরে পাঁচটি বিদ্যালয়ের সম্মান প্রাপ্তি

বিদ্যালয় স্তরে ‘Eat Right’ এই উদ্যোগকে সফল করে শহরের পাঁচটি স্কুল পেল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সম্মান। ছ’মাস ধরে চলা পর্যবেক্ষণে মিড ডে মিল রান্না, পরিবেশনা, গুনগত এবং স্বাস্থ্যকর মান বজায় রেখে পাঁচটি স্কুল এই সম্মান পেল। শহরের নামী তিনটি ছেলেদের এবং ২টি মেয়েদের স্কুল এই সম্মান পেল।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, যে বিদ্যালয়গুলি এই শংসাপত্র পাচ্ছে সেগুলি হল, বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল,বর্ধমান হরিসভা হিন্দু গার্লস হাইস্কুল, বর্ধমান বিদ্যার্থীভবন হাইস্কুল,বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল এবং বর্ধমান টাউন স্কুল। মিড ডে মিল রান্নার জায়গা স্বাস্থ্যকর রাখা, খাবারের স্বাস্থ্যগত দিক অক্ষুণ্ণ রাখা, কাঁচা শাকসবজির বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহার, রুচিশীল এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশন, খাবার পরিবেশ এবং পড়ুয়াদের মধ্যে খাবার আগে পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং স্কুলে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা কেমন রাখা হয়েছে, তার উপর নির্ভর করেই এই শংসাপত্র মিলেছে।
জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ(২) তথা জেলা ফুড সেফটি অফিসার সুনেত্রা মজুমদার জানান, এই বছরের খাদ্য সুরক্ষার থিম- ‘সায়েন্স ইন অ্যাকশন’। উন্নত স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ব্যবহারে জোর দেওয়াই এই থিমের উদ্দেশ্য। তার কথায়, সেই দিকে নজর দিয়েই বিগত ৬ মাস ধরে স্কুলগুলিতে লাগাতার পর্যবেক্ষণ হয়। সেই পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণে এই পাঁচটি স্কুল গুনগত মান স্পর্শ করতে পেরেছে। তাই তাদের শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে।
পুরস্কার পাওয়া স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী মল্লিক বলেন, মিড ডে মিল নিয়ে নিজেরা সতর্ক থাকি এবং রাঁধুনী- সহকারীদেরও সতর্ক করা হয়।আমরা খাবার চেখে পরীক্ষাও করি,যাতে কোনরকম গড়মিল না হয়। পড়ুয়াদের খাবার নিয়ে কোনরকম আপোষ না করেই এই সম্মান মিলেছে। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরুনাভ চক্রবর্তী বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাড়ির মত রান্না পড়ুয়াদের মুখে তুলে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য থাকে। রান্নার ব্যবহৃত জল থেকে আনাজপাতি সবকিছুর ‘হাইজিন’ মানা হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য চারজন শিক্ষক রয়েছেন। সেই কারণেই তাঁরা এই শংসাপত্রের জন্য বিবেচিত হয়েছেন।