সৌজন্যের নজির পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে তালা খুলে দিলেন বিজেপির বিধায়ক সৈকত পাঁজা
জেলার মন্তেশ্বরে এবার সৌজন্যের নজির লক্ষ্য করা গেল। ৭ মে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে তালা খুলে তা দলের নেতৃত্বের হাতে ফিরিয়ে দিলেন বিজেপি বিধায়ক সৈকত পাঁজা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে। কোথাও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, কোথাও পতাকা খুলে ফেলা, আবার কোথাও তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই মন্তেশ্বর বিধানসভায় দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি, যা রাজনৈতিক সৌজন্য ও শান্তির বার্তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল জেলায়। বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—“অশান্তি নয়, শান্তি চাই।” দলের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় যেসব খারাপ রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরী হয়েছে, সেই পথ অনুসরণ করতে চায় না বিজেপি। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে বসবাস করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় তারা। পাশাপাশি বাংলাকে “সোনার বাংলা” হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এই আবহেই এদিন মন্তেশ্বর বিধানসভার বিজুর দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধুনুই গ্রামে একটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে যান বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক সৈকত পাঁজা। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই কার্যালয়ের তালা খুলে দেন এবং সম্মানের সঙ্গে তা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক সৌজন্যের এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। এদিকে নিজেদের দলীয় কার্যালয় ফিরে পেয়ে খুশি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাও। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও শান্তি ও সহাবস্থানের এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এই পরিপেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন ব্লক সহ-সভাপতি অমর সাহা দলীয় কার্যালয় ফিরে পেয়ে বলেন, আমরা খুব খুশি। বিজেপির বিধায়ককে ধন্যবাদ জানাই।


