1
বাল্যবিবাহ রোধে জামালপুর ব্লকে ছাত্রীদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা
মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও স্কুলছুট ছাত্রী এই বিষয়কে সামনে রেখে জামালপুর ও জামালপুর পূর্ব চক্রের উদ্যোগে এবং ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় জামালপুর ব্লক অফিসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ব্লকের প্রতিটি উচ্চ প্রাথমিক , মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী নোডাল টিচার ও একজন করে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা এই আলোচনায় সভায় অংশ নেন। প্রসঙ্গত, জেলা শাসক প্রতিটি ব্লকের বিডিও ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের এই বাল্যবিবাহ বিষয়ে নজরদারির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী অন্যান্য ব্লকের সঙ্গে জামালপুর ব্লকে ব্লক প্রশাসন ও দুই চক্রসম্পদ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক,বিডিও পার্থসারথী দে, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান,জামালপুর থানার সেকেন্ড অফিসার,সিডিপিও সুশোভন রায়, দুই এস আই রাজেন্দ্র প্রসাদ মাজি ও অনিন্দিতা সাহা,ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের পক্ষ থেকে ডাঃ চন্দন ঘোষ, জামালপুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার নায়েক, শিপতাই মুহুলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কুন্তল চট্টোপাধ্যায়, বনবিবিতলা হাইস্কুলের শিক্ষক পীযূষ দাস সহ অন্যান্যরা। (পজ্)
বিডিও পার্থসারথী দে বলেন, যেখানে রাজ্য সরকার মেয়েদের জন্য এত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তারপরও এই ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তিনি কন্যাশ্রী নোডাল টিচারদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিটি স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাবকে সচল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মেয়েদের নিয়ে আলাদা করে বসতে হবে। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে প্রচার করতে হবে। কোনো মতেই ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না এই মর্মে অভিভাবকদেরও বোঝাতে হবে। স্কুলে গার্জেন মিটিং, মায়েদের নিয়ে মিটিং করে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে হবে। কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, কোথাও যদি তারা খবর পায় তাদের বয়সী কোনো সাথীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তারা যেন দ্রুত বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী নোডাল টিচারকে জানায়। তিনি ছাত্রীদের বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে তাদেরই আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে । (পজ্)
মেহেমুদ খান বলেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একদম অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া মানা যায় না। সরকার কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, সবুজসাথী সহ নানান প্রকল্প চালু করেছে। যাতে মেয়েরা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পড়াশুনা করে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর তাদের ১৮ বছর বয়স হলে তবেই বিয়ে করা উচিত। তিনি স্কুলের কন্যাশ্রী নোডাল টিচারদের এই বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার কথা বলেন। কন্যাশ্রী ক্লাব সচল থাকলে বাল্যবিবাহ অনেকটাই রোধ করা যাবে বলে উল্লেখ করেন মেহেমুদ খান। (পজ্)
এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামালপুর পূর্ব চক্রের এস আই রাজেন্দ্র প্রসাদ মাজি ও পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক।
2
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা নুরুল ইসলামের ১৭ তম প্রয়াণ দিবস পালন
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা নুরুল ইসলামের ১৭ তম প্রয়াণ দিবস পালন করা হলো। বর্ধমানের বাদামতলায় একটি বেসরকারি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাক্তার দেবাশিস কোনার, জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর গাঙ্গুলী, অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা সুদীপ মজুমদার,প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শেখ বোরশেদ, মুন্সি রফিকুল হাসান,, নবকুমার ঘোষ, শেখ ইয়াকুব প্রমুখ। এদিন নুরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে একে একে মাল্যদান করেন শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাক্তার দেবাশীষ সোনার, সুদীপ মজুমদার সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ।
শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নুরুল ইসলাম ছিলেন সারা বাংলার এক আপোসহীন লড়াইয়ের প্রতীক। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্টের শাসনকালে তিনি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সত্তরের দশকে রাজ্যে যখন কংগ্রেস সরকার গঠন করেছিল, সেইসময় নুরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি বহু তরুণ নেতৃত্বকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৈরী করেছিলেন। যারা আজকে জেলা ও রাজ্যস্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমন একজন মানুষকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।


