ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে হাউস গঠন II বাল্যবিবাহ রোধে জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সচেতনতা শিবির

1
ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে হাউস গঠন

পূর্ব বর্ধমান জেলার সমস্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্লাসে অন্তত চারটি করে হাউস ফর্মেশন করার লক্ষ্য নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমান জেলা শিক্ষা দপ্তর একটি সভার আয়োজন করে। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন ডিআই মাধ্যমিক দেবব্রত পাল, এ আই অফ স্কুলস প্রিয়ব্রত মুখার্জী, অতনু হাজরা প্রমুখ। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার প্রতিটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের যতগুলি শ্রেণী আছে সেই প্রত্যেকটি শ্রেণীতে চারটি করে হাউস থাকবে। এই হাউস গঠনের মূল লক্ষ্য হলো ছাত্র-ছাত্রীদের দলগত শিক্ষায় উৎসাহিত করা ও তার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই ধরনের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো একজন ছাত্রছাত্রীর সামগ্রিক উন্নতির স্বার্থে তাকে মূল্যবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রতিযোগিতা এই বিষয়গুলি সম্পর্কে উপলব্ধি করানো। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে হাউস ফর্মেশন করা হলো। এ খবর জানিয়েছেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার। জানা গেছে, চারটি নামে এই বিদ্যালয়ে হাউস গঠন করা হয়েছে। নামগুলি হলো গ্রীষ্ম, শীত, শরৎ ও বসন্ত। প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, আমরা বিভিন্ন মহাপুরুষের নামে এই হাউসের নামকরণ করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানে প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন ঘটে তার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের উপলব্ধিকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই আমাদের প্রকৃতির উপরে এই হাউসগুলির নামকরণ করা হলো। কারণ এই সমস্ত প্রকৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনযাত্রায় একটা প্রভাব বিস্তার করে। তাই প্রকৃতিকে না চিনলে এই সমস্ত কচিকাঁচারা তাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীদের জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই হাউসগুলির নামকরণের মধ্যে দিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যকে সফল করে তুলতে চাই।

2
বাল্যবিবাহ রোধে জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সচেতনতা শিবির

১৮ মার্চ পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকে জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ নিয়ে এক সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পঞ্চায়েত অফিসের মিটিং রুমে এই শিবির অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জামালপুর গার্লস হাইস্কুল, কালনা কাঁসরা হাইস্কুল সহ এলাকার ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরা এই সচেতনতামূলক শিবিরে যোগদান করেন। মূলত ১৮ বছরের আগে বিবাহ করা কেন উচিত নয়, কী কী ক্ষতি হতে পারে, সেই বিষয় নিয়েই এদিন আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, জয়েন্ট বিডিও, সিডিপিও, জামালপুর গার্লস হাইস্কুলের দুই শিক্ষিকা, জেলা বিওআইসি চাইল্ড প্রোটেকশন ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়, জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু পাল সহ অন্যান্যরা। মেহেমুদ খান বলেন, বাল্যবিবাহ কমাতে এই ধরনের আলোচনা সভা যথেষ্ট কার্যকরী হবে। এই মর্মে আমাদের শপথ নিতে হবে। কোনো মতেই ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিবাহ আমরা কেউ দেব না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের শিক্ষার জন্য কতরকমের স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছেন। সেই সুযোগ সকলেরই নেওয়া উচিত। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু পাল বলেন, যাতে তার পঞ্চায়েত এলাকায় বাল্যবিবাহ কোনোমতেই না হয় সেইজন্য তারা এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। তিনি আশাবাদী উপস্থিত মায়েরা ও তাদের কন্যারত্নরা নিশ্চই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। বাল্যবিবাহ রোধে সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তারা।