1
রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া টাকার মধ্যে ৫৫০০ টাকা কুড়িয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধের হাতে তুলে দিলেন ট্রাফিক ওসি
শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া টাকার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করে অসহায় এক বৃদ্ধের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় ব্যানার্জী। ওসির এই কাজের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশংসার ঝড় বয়ে যায় স্থানীয় মানুষদের পক্ষ থেকে। জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বিজয় ব্যানার্জী বর্ধমানের ৩ নম্বর ইছলাবাদ আমবাগান এলাকার বাসিন্দা। তিনি পুলিশ লাইনের কাছে একটি এটিএম থেকে দুই দফায় মোট ১৮ হাজার টাকা তোলেন। তার মধ্যে ৯ হাজার টাকা ঠিকমতো পকেটে রাখলেও বাকি ৯ হাজার টাকা পকেটে ঠিকভাবে ঢোকেনি এবং অজান্তেই পকেটের পাস দিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।
এরপর সাইকেলে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সেই টাকার ৫০০ টাকার নোট একের পর এক রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিষয়টি ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় ব্যানার্জী। খোঁজ চালিয়ে তিনি মোট সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
পরে ওই টাকা প্রকৃত মালিক বিজয় ব্যানার্জীর হাতে তুলে দেন তিনি। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি পান বৃদ্ধ এবং কৃতজ্ঞতা জানান ট্রাফিক পুলিশের প্রতি।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, শুধু আইন রক্ষা নয়, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেও পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এই ঘটনা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
2
গলসীর বিধায়ক নেপাল ঘড়ুইকে ঘিরে পোস্টার বিতর্ক, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত বিধায়ক হটাও’ পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক তর্জা দুই দলে
রাজ্যে ভোট ঘোষণার আগেই বিধায়ক দুর্নীতিগ্রস্ত এই বিষয় নিয়ে ব্যানার ও পোষ্টার দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার বুদবুদ থানার চাকতেঁতুল এলাকায়। গলসী বিধানসভার বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই -এর বিরুদ্ধে ব্যানার ও পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই বিধানসভা এলাকায়। ১৩ মার্চ সকালে এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বিভিন্ন জায়গায় একাধিক পোস্টার ও ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছে। পোস্টারগুলিতে লেখা ছিল— “দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই হটাও, গলসী বিধানসভা বাঁচাও”। এই পোস্টার ঘিরেই এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। পোস্টারগুলিতে দাবি করা হয়েছে যে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
বিজেপি মুখপাত্র ডক্টর শান্তরূপ দে বলেন, গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূলের বিধায়কদের নিয়ে যে অসন্তোষ তারই উদাহরণ গলসী বিধানসভা এলাকায় দেখা গেল। সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করছে। আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তারই নিদর্শন এটা। শুধু গলসী বিধানসভা বলে নয়, পশ্চিমবাংলায় প্রতিটা বিধানসভায় তৃণমূলের যেই প্রার্থী হোন তিনি হারবেন।
এই পোস্টার প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, গোটা বাংলার মানুষকে কি ভাবে এসআইআর-এর মাধ্যমে হেনস্থা, অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি, সেটা আমরা সবাই জানি। এখন সবাই SIR নিয়ে ব্যস্ত। এই SIR আবহে নির্বাচন হতে চলেছে। এসআইআর এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো দলই হাটেবাজারে নেই। বিজেপি দিল্লীতে উঠে চলে গেছে, বাংলায় বিজেপি নেই। সিপিআইএম নেই, কংগ্রেস নেই। এই সময় যে বা যারা রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের নাম করে পোস্টার লাগাচ্ছে, একে প্রার্থী চাই, ওকে প্রার্থী চাই বলছে, এটা মানুষ করে না। এটা রাতের অন্ধকারের কাজ। আমাদের দলীয় কেউই এই কাজ করতে পারে না। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস নপুংসকের দল নয়। তাই এই পোস্টার সাঁটানোর কাজটা রাতের অন্ধকারে বিজেপিই করেছে এখানে বলে দাবি করেন দেবু টুডু।


