বর্ধমান পৌরসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বাজেট পেশ | পৌর কর্মচারীদের মাইনে বৃদ্ধির দাবি


1
বর্ধমান পৌরসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বাজেট পেশ

১৯ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বাজেট পেশ হলো। এই বাজেট পেশ করেন পৌরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকার। পরে এক সাংবাদিক সভায় পরেশচন্দ্র সরকার জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বর্ধমান পৌরসভার জন্য ২৯৬ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ ধার্য হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ দিনের এই সাংবাদিক সভায় অন্যান্য বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মৌসুমী দাস সহ অন্যান্য কাউন্সিলরবৃন্দ ও পৌরসভার আধিকারিকরা। ছিলেন বর্ধমান পৌরসভার সচিব জয়রঞ্জন সেন, আধিকারিক তাপস মাকড় প্রমুখ। এই সভায় পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বর্তমান বছরে বেশকিছু লক্ষ্যকে সামনে রেখে পৌরসভার এই বাজেট তৈরী করা হয়েছে। বি সি রোডের সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যে বোরহাট কালীবাড়ি থেকে কার্জেন গেট পর্যন্ত সমস্ত রাস্তাটি ম্যাস্টিক রোডে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দুপাশে উন্নত মানের ড্রেন এবং ডেকোরেটিভ স্ট্রিট লাইট করা হবে। পরেশবাবু আরও জানান, অম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের সর্বত্র সুষ্ঠুভাবে পানীয় জল সরবরাহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন সহ সৌন্দর্যায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। পথশ্রী ও আপাস প্রকল্পের কাজগুলি যুদ্ধকালীন পদক্ষেপে বাস্তবায়িত করা হবে। শহরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ শুরু করা হয়েছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। চেয়ারম্যান আরও জানান, শীঘ্রই বর্ধমান শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ইউপিএইচসি চালু করা হবে। এরজন্য ব্যয় হবে আনুমানিক এক কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, এ বছরই দুর্গাপুজোর মধ্যে দিঘাতে বর্ধমান পৌরসভা পরিচালিত হলিডে হোম-এর সুবিধা পাবেন বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা। শহরের সমস্ত ড্রেন রাস্তা নিয়মিতভাবে ঠিক রাখা হবে। জঞ্জাল পরিষ্কারের বিষয়টিও নিয়মিত চলবে। পর্যাপ্ত পানীয় জল ও আলোর ব্যবস্থা থাকব পৌরসভার সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে বর্ধমান শহরের সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে পরিষেবা প্রদান করা হবে। পরেশ সরকার আরও জানান, বর্ধমান পৌর উৎসবের উদ্বৃত্ত অর্থে একটি বিয়ে বাড়ির কাজ আগামী আর্থিক বছরের মধ্যে শুরু করা হবে।

2
পৌর কর্মচারীদের মাইনে বৃদ্ধির দাবি

বর্ধমান পৌরসভার কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীরা তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানালেন পৌরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকারের কাছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের পর পৌরপ্রধান যখন সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন তখন সেই কক্ষেই প্রবেশ করেন পৌরসভার কর্মচারীরা। সেখানেই তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাতে থাকেন। পরবর্তী পর্যায়ে পৌরপ্রধানের অনুরোধে তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হলে তারা পুনরায় পৌরপ্রধানের কাছে তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে পৌর কর্মচারীরা জানান, তারা তাদের ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের বর্তমানে বেতন অত্যন্ত কম। এখন যা বাজার মূল্য সেই অনুযায়ী এই বেতনে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তারা পৌরসভার সবদিক বিবেচনা করেই তাদের এক হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, অস্থায়ী কর্মী হিসেবে এখানে অনেকেই ১০ বছর, কেউবা ১৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করছেন। কিন্তু তাদের সামান্যই বেতন এখনও পর্যন্ত বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা তাদের বেতন বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছেন পৌরপ্রধানের কাছে। তারা আরও জানান, পৌরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকার এ ব্যাপারে তাদের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পৌর কর্মচারীরা বলেন, তাদের কাজের স্থায়ীকরণের বিষয়টিও তারা এই দাবির মধ্যে রেখেছেন। তারা আশা রাখেন, নিশ্চয় পৌর কর্তৃপক্ষ আগামী দিনে এই বিষয়টি বিবেচনা করবেন।