তেজগঞ্জ হাইস্কুলের অভিনব উদ্যোগ | প্রয়াত বর্ধমান টাউন স্কুলের প্রাক্তনী বদরুদ্দিন উমর

1.
তেজগঞ্জ হাইস্কুলের অভিনব উদ্যোগ

বর্ধমান শহরের অন্যতম বিদ্যালয় তেজগঞ্জ হাইস্কুলের পক্ষ থেকে একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে ড্রপ আউট কমানো ও অনিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়মুখী করার জন্য ইতিমধ্যেই স্থানীয় এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা হয়েছে। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ড্রপ আউট রয়েছে কিংবা অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে তাদের নাম বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ব্যাপারে মাইকিং করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমস্ত কাজটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগেই করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আমরা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের একটি তালিকা তৈরী করেছি। যারা ড্রপ আউট রয়েছে কিংবা অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে তাদের নাম মাইকিং করে ঘোষণা করা হয়েছে। সমাজ কল্যাণ দপ্তর থেকে একজন কাউন্সিলর মঙ্গলবার সেখানে আসেন। এই কাউন্সিলরদের সামনে ড্রপ আউট ও অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। তিনি সমস্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। সন্দীপবাবু বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এই ছাত্রছাত্রীদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটা সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা। বিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই আমরা আমাদের এই কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করেছি। (পজ্)

2
প্রয়াত বর্ধমান টাউন স্কুলের প্রাক্তনী বদরুদ্দিন উমর

বর্ধমান টাউন স্কুলের বর্ষীয়ান এবং স্বনামধন্য প্রাক্তনী বদরুদ্দিন উমর ৯৩ বছর বয়সে গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ঢাকাতে প্রয়াত হন। ১৯৩১ সালে ২০ ডিসেম্বর তার জন্ম হয়েছিল বর্ধমানের উপকন্ঠে অবস্থিত কাশিয়াড়া গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল হাসিম ছিলেন সেই সময়কার প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতৃত্ব । তাঁর পুরো পরিবার ছিল অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত এবং পরিবারের একাধিক সদস্য সেই সময়ে সিভিল সার্ভিস এবং বহু উচ্চ পদে আসীন ছিলেন । তৎকালীন রাজনীতিতেও এই পরিবারের যোগদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৯০ সাল নাগাদ তাদের পরিবার পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকাতে চলে যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুদ্দিন উমর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেছিলেন। পরে অবশ্য কিছুটা পরিবারিক প্রথা থেকেই তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। অত্যন্ত বর্ণময় ছিল তাঁর শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন।
তাঁর দাদু মৌলানা আবুল কাসেম ছিলেন বর্ধমান টাউন স্কুলের অন্যতম প্রধান স্থপতি, যিনি ছিলেন সেই সময়কার প্রিভি কাউন্সিলেরও সদস্য। মূলত তাঁরই উদ্যোগে এটি জেলা স্কুল হিসাবে গড়ে ওঠার অনুমোদন পায় তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের। বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্যও ছিলেন মৌলানা আবুল কাশেম সাহেব। তারা ছিলেন বর্ধমানের উপকন্ঠে অবস্থিত কাশিয়াড়া গ্রামের জমিদার পরিবার।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-পরিবারের অন্যতম বদরুদ্দিন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বর্ধমান টাউন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন প্রাক্তনী’র সম্পাদক বিশ্বজিৎ মল্লিক বলেন, এই মহান মানুষের প্রয়াণে আমরা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা গভীরভাবে মর্মাহত। এই বিদ্যালয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। মহান এই মানুষটি আমাদের সকলের কাছেই অত্যন্ত গর্বের। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।