জেলার মেমারি গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রদের অভিনব উদ্ভাবন — “Reverse Strike”
মেমারির গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রদের অভিনব উদ্ভাবন — তৈরী করা হলো ব্যতিক্রমী তিন চাকার গাড়ি। তিন চাকার গাড়ি বলতে সাধারণত আমাদের চোখে ভেসে ওঠে টোটো, ভ্যানরিকশা কিংবা ইঞ্জিন ভ্যানের ছবি। যেখানে সামনে থাকে একটি চাকা এবং পিছনে দুটি চাকা। তবে সেই প্রচলিত ধারণাকেই এবার বদলে দিল মেমারি গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের ছাত্ররা।
তাদের তৈরী করা অভিনব এই গাড়ির সামনে রয়েছে দুটি চাকা এবং পিছনে একটি চাকা। দেখতে যেমন আলাদা, তেমনই এর ডিজাইনও বেশ চমকপ্রদ। গাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে “Reverse Strike”।
ছাত্রদের কথায়, অনেকেই মনে করতে পারেন এই ধরনের গাড়ি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হবে না বলেই দাবি তাদের। বিশেষ ডিজাইনের কারণেই গাড়িটি ডিসব্যালেন্স হলেও সহজে উল্টে যাবে না। একটি বাইকের ইঞ্জিন ব্যবহার করেই তৈরী করা হয়েছে এই গাড়ি। দীর্ঘ প্রায় সাত থেকে আট মাসের পরিশ্রম ও পরিকল্পনার পর অবশেষে বাস্তবে রূপ পায় এই অভিনব উদ্যোগ। জানা গেছে, গাড়িটি তৈরীতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
এই গাড়িতে একসঙ্গে তিনজন বসতে পারবেন।
শুধু কয়েকজন নয়, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টাতেই তৈরী হয়েছে এই বিশেষ গাড়ি। কলেজের ছাত্রদের এই উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ইতিমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছে।
ছাত্ররা আরও জানিয়েছেন, আপাতত গাড়িটির মূল কাঠামো তৈরী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এতে আরও বিভিন্ন আধুনিক ফিচার ও মডিফিকেশন যোগ করা হতে পারে। বর্তমানে গাড়িটিতে সেল্ফ স্টার্ট ও কিক স্টার্ট — দুই ব্যবস্থাই রয়েছে।
আগে যে বাইকের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে সেটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার মাইলেজ দিত। তবে গাড়িটি ভারী হওয়ায় এখন সেটি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটারে।
বর্তমানে গাড়িটিতে রিভার্স গিয়ারের ব্যবস্থা নেই। তবে ভবিষ্যতে রিভার্স চালানোর সিস্টেমও যোগ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্ররা।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এই ব্যতিক্রমী উদাহরণ আবারও প্রমাণ করে দিল, সঠিক সুযোগ ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে ছাত্রছাত্রীরাই তৈরী করতে পারে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা। এটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ।


