সংবিধান বাঁচাও গণমঞ্চের সম্মেলন || আমার পাঠশালার উদ্যোগে বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী পালন || জামালপুরে তিন শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি


1
সংবিধান বাঁচাও গণমঞ্চের সম্মেলন

বীরভূম জেলার বোলপুরে সংবিধান বাঁচাও গণমঞ্চের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, বেশ কয়েকটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা করা। আয়োজকদের তরফে বলা হয়, কেন্দ্র সরকার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দশটিরও বেশি অধিক বিতর্কিত আইন পাস করেছে। এই সমস্ত আইনগুলি হিন্দু,মুসলিম, খ্রিস্টান, জৈন সহ সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ভীষণভাবে উদ্বেগজনক। যা ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে সমাজে। তাই এই প্রেক্ষাপটে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ ও প্রগতিশীল নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ করে জনমত গঠনের লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন। এই সম্মেলন মঞ্চ থেকে এসআইআর নিয়েও আলোচনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বীরভূম জেলা কমিটির সভাপতি শিক্ষক মাওলানা সিরাজুল হক, প্রাক্তন বিচারপতি জনাব ইন্তাজ আলী শাহ, সংবিধান বাঁচাও গণমঞ্চের সভাপতি জনাব হাজী শামসুল হক, সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শ্রীমন্ত রায়, সংগঠনের বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে এই দিনের সম্মেলনে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, দেশের বুকে গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই সংবিধান বাঁচাও গণমঞ্চ বিভিন্ন এলাকায় সম্মেলনের আয়োজন করছে। নানান বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

2
আমার পাঠশালার উদ্যোগে বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী পালন

বর্ধমান শহরের নবাবহাট সংলগ্ন তালপুকুরে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমার পাঠশালা। এদিনের অনুষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া, সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও প্রবীণ সহ মোট ৭০ জনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেইসঙ্গে এখানে উপস্থিত শিশুদের আপেল,কমলালেবু, খেজুর, লাড্ডু সহযোগে পুষ্টির দিশা কর্মসূচীর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার অচিন্ত্য কুমার রায়,ডাক্তার ইউসুব মন্ডল, ডাক্তার ওয়াসেফ আলী এবং ডাক্তার চন্দন ভট্টাচাৰ্য সহ বিশিষ্ট সঞ্চালক ও সাংবাদিক শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী এবং কবি ও সঞ্চালক শেখ জাহাঙ্গীর। আমার পাঠশালার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সন্দীপ পাঠক, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান চৌধুরী ও মোশারফ হোসেন। সন্দীপ পাঠক বলেন, আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মহাপুরুষদের জন্মদিনগুলি বিশেষভাবে পালন করি।

3
জামালপুরে তিন শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৮ নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে শহীদ উত্তম ভুলের স্মরণসভা করা হলো। জোতশ্রীরাম অঞ্চলের শিয়ালিতে অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণসভা। প্রসঙ্গত, বাম আমলে সিপিএমের হাতে খুন হয়ে শহীদ হন উত্তম ভুল, পাঁচু গোপাল রুইদাস , ইসাহাক মল্লিক, এমনটাই অভিযোগ। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত শহীদদের সম্মানের সাথে স্মরণ করে আসছে। জামালপুরে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, ব্লক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তাবারক আলী মন্ডল,অঞ্চল সভাপতি তপন দে, শেখ মিন্টু, উত্তম ভুলের স্ত্রী অঞ্জলি ভুল ও দুই পুত্র অভীক ও চিরঞ্জীব ভুল। প্রথমে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। মেহেমুদ খান বলেন, সেই সময় সিপিএমের আমলে শুধু তৃণমূল করতো বলে আজকের দিনে উত্তম ভুলকে খুন করা হয়। দলের প্রতি উত্তম ভুলের অবদান ভোলবার নয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় প্রতিবছরই তারা শহীদদের উদ্দেশ্যে স্মরণ সভা করেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন সরকারে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী এই শহীদ পরিবারগুলোকে ভুলে যাননি। তাই উত্তম ভুলের দুই ছেলেকেই চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। ওনার স্ত্রীকে করা হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।

বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি বলেন, উত্তম ভুলের মতোই এরকম অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে দল আজ ক্ষমতায়। তাই দল এদের ভুলে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে এই বীর শহীদদের স্মরণসভা করা হয়।