কালনায় রাজপরিবারের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা ! আড়াইশো বছরের ঐতিহ্য লালজি দেবকে নিয়ে রথযাত্রা, সরকার দিল ৫ লক্ষ টাকার অনুদান
রথযাত্রা মানেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ— এমন ধারণার ব্যতিক্রম দেখা যায় পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। এখানে বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী রথে আরোহণ করেন লালজি মহারাজ। প্রায় আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই রথযাত্রা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়, যা কালনার অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য ও আকর্ষণ।
রীতি অনুযায়ী, রথে আরোহণের আগে লালজি মহারাজকে মন্দির থেকে সুসজ্জিত পালকিতে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রথের কাছে নিয়ে আসা হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই আচার আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। টেরাকোটার অপূর্ব কারুকার্যমণ্ডিত মন্দির এবং তার সামনের সুদৃশ্য নাটমণ্ডপকে কেন্দ্র করে রথযাত্রার দিন সৃষ্টি হয় এক অনন্য ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
লোকমুখে আজও প্রচলিত রয়েছে— “দেখবি যদি রথ, ধর কালনার পথ।” জনশ্রুতি, একসময় রথের দিন কালনার আশপাশের গ্রামাঞ্চলে এই ডাকই শোনা যেত। সেই ঐতিহ্যকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে কালনার এই প্রাচীন রথযাত্রা। পাশাপাশি কালনা মহকুমার বিভিন্ন প্রাচীন রথকে ঘিরেও বসে জমজমাট রথের মেলা, যা দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
কালনা শহর রথ উৎসব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই বছরের রথযাত্রা আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই উৎসবের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ফলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনভর উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা শহর।
বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন, কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অসংখ্য ভক্ত-দর্শনার্থী। ঐতিহ্য, ভক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আবারও প্রমাণিত হল— রথযাত্রার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র আজও কালনা। ভক্ত সমাগমে জমজমাট রথযাত্রা।


