সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মরাজের দোল উৎসব | গাছের গায়ে রঙ দিয়ে দোল উৎসব পালন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের


1
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মরাজের দোল উৎসব

জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের সগড়াই অঞ্চলের সগড়াই গ্রামে ধর্মরাজের দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুইশত বছরের পুরনো বাবা ধর্মরাজের এই দোল উৎসব। ৪ মার্চ এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অন্নভোগের আয়োজন করা হয়। প্রায় ২০ হাজার মানুষ এদিন এখানে অন্নভোগ গ্রহণ করেন। এই উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন)। ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় প্রমুখ। এ প্রসঙ্গে অপার্থিব ইসলাম বলেন, এখানে আয়োজিত বাবা ধর্মরাজের দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বধর্ম সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। সব ধর্ম, সব জাতি, সব শ্রেণীর মানুষ এই উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। দোল উৎসবে মেতে ওঠার পাশাপাশি তারা এখানে অন্নভোগ গ্রহণ করেন। যা ভারতের সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক বলা যায়। খণ্ডঘোষের মতো একটি গ্রামীণ এলাকাতেও ভারতের সেই সংস্কৃতির ধারা যুগ যুগ ধরে বহমান। আমাদের সেই ধারাকে বজায় রাখতে হবে, একে সুরক্ষিত রাখতে হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, এখানে ধর্মরাজের দোল উৎসব এক মহামিলনের রূপ নেয়। যেখান থেকে আমরা বিবিধের মাঝে ঐক্যের বার্তা শুনতে পাই। এই উৎসবের মাহাত্ম্য সেখানেই।

2
গাছের গায়ে রঙ দিয়ে দোল উৎসব পালন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের

পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চন্ডীপুরডাঙা আদিবাসী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীরা এবার দোল উৎসব পালন করলো একটু অন্যরকম ভাবে। বিদ্যালয়ে গাছের ডালে আবিরের ফোঁটা দিয়ে গাছের দীর্ঘজীবন কামনায় দোলের আনন্দে মেতে উঠল তারা। তাদের এই অভিনব ভাবনাকে স্বাগত জানালেন এলাকার বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিত রায় বলেন, দোলের দিনে আমরা একে অপরের গায়ের রঙ দিয়ে থাকি, এটা একটা প্রচলিত রীতি। কিন্তু আমরা সেই রীতির বাইরে বেরিয়ে একটু অন্যরকম ভাবে দোল উৎসব পালন করতে চেয়েছিলাম বিদ্যালয়ে। আর তারই অঙ্গ হিসেবে গাছেদের ডালে আবিরের ছোঁয়া লাগানোর এই প্রচেষ্টা ছাত্র-ছাত্রীদের মনে একটা অন্যরকম অনুভূতি এনে দিয়েছে। তারা সাদরে এই অভিনবত্বকে গ্রহণ করেছে। এই আনন্দ অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের এই উদ্যোগকে সার্থক রূপ দিয়েছে।