ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই, পুলিশের তৎপরতায় ধৃত ২

ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই, পুলিশের তৎপরতায় ধৃত ২

ছিনতাইয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশের জালে ধৃত ২ দুষ্কৃতী, উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা। পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার বড় সাফল্য বলা যায়।
ভরদুপুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে রসুলপুরে। তবে শেষরক্ষা হলো না। পুলিশের অতন্দ্র নজরদারি ও ফিল্মি কায়দায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই ছিনতাইকারী। উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া সম্পূর্ণ টাকাও। পুলিশের এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষও পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে পালসিট পুলিশ ক্যাম্পের অধীনে রসুলপুরের স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই। ঠিক সেই সময় একটি কালো রঙের পালসার বাইকে চেপে দুই দুষ্কৃতী তাদের পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ভাইয়ের হাত থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
টাকা খোয়াতেই চিৎকার করতে করতে দুষ্কৃতীদের পিছু ধাওয়া করেন ওই দুই ভাই। সেই সময় জাতীয় সড়কের পাশে কর্তব্যরত ছিলেন ট্রাফিক অফিসার নানু দাস। বিষয়টি তাঁর নজরে আসতেই তিনি কালবিলম্ব না করে নিজের টিম নিয়ে দুষ্কৃতীদের পিছু নেন। একই সঙ্গে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে জাতীয় সড়কে কর্তব্যরতদের রোড ব্লক করার নির্দেশ দেন।
পুলিশের তৎপরতা দেখে দুষ্কৃতীরা কোনোমতে রোড ব্লক এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর জামালপুর থানার মশাগ্রাম রেলগেট এলাকায় বেগতিক বুঝে তারা বাইকটি ফেলে রেখে পাশের একটি ঘন কাশবনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে।
ট্রাফিক সেফটি অফিসার নানু দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ও ট্রাফিক হোমগার্ডের একটি দল পুরো কাশবনটি ঘিরে ফেলে। চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে কাশবনের ভেতর থেকে দুই দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে পুলিশ। এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—সৌরভ সিংহরায়,
অলোক সিংহরায়,
সেখ সিরাজুল, প্রদীপ রজক,অভিষেক প্রামাণিক।
আটক করার পর দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সম্পূর্ণ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ধৃতদের প্রথমে স্থানীয় পালসিট পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। এরপর আক্রান্ত দুই ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম — গোপাল সিং ,বাড়ি হাজিনগর, নৈহাটি এবং দীপক দাস বাড়ি হালিশহর এলাকায়। এদিন পুলিশের সক্রিয়তায় এই দুই দুষ্কৃতী ধরা পড়ে।