1
মৃত্যুর পর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে অভিনব উদ্যোগ
সাধারণত মা-বাবা মারা গেলে আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা তাদের শ্রাদ্ধের কাজ করেন। একই সঙ্গে শ্রাদ্ধের শেষে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়ানো হয়। সামাজিক এই রেওয়াজকে ঠিক মনের দিক থেকে মেনে নিতে পারেননি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের বাসিন্দা গাছ মাস্টার হিসেবে পরিচিত জাতীয় শিক্ষক অরূপ চৌধুরী। তার বাবা জনরঞ্জন চৌধুরীর ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার সময় সামাজিক এই নিয়ম মানতে গিয়ে মনে প্রশ্ন এসেছিল তার। পরবর্তীকালে শ্রাদ্ধ শেষে এই ধরনের খাওয়ানোর আয়োজন তিনি আর করবেন না বলে মাকে জানান। তার এই ইচ্ছাকে0 মা সম্মতীও দেন। বিষয়টা মেনে নেন অরূপ চৌধুরীর পরিবারের সকলেই। সম্প্রতি ২০২৫ এর জুলাই মাসে মারা যান অরূপ চৌধুরীর মা মাধবী চৌধুরী। মায়ের পারলৌকিক অন্যান্য কাজ করলেও শ্রাদ্ধের কাজ শেষে ভুঁড়িভোজের আয়োজনটি তিনি বন্ধ রাখেন। পরিবর্তে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে অরূপ চৌধুরী ও তার ভাই অনুপ চৌধুরী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গাছ গ্রুপ এবং রায়ান মিলন সংঘের সহযোগিতায় রায়ানে একশোটি নিমচারা রোপণ করেন। অরূপ চৌধুরী বলেন, বাবা-মার মৃত্যুর পর তাদের শ্রাদ্ধের কাজ শেষে লোকজন খাওয়ানোটা তার কাছে কোনো মানবিক কাজ বলে মনে হয়নি। তাই এই রেওয়াজটা তিনি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। আর চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম-এর মতোই নিজেদের দিয়েই এই কাজটা শুরু করলেন তিনি ও তার পরিবার। অরূপ বাবু বলেন, আগামী দিনে এই উদ্যোগকে সমাজের সর্বস্তরে প্রসারিত করার একটা প্রক্রিয়া, তারা চালাবেন। এরজন্য তিনি পাশে পেতে চান তার হাতে তৈরী গাছ গ্রুপের সদস্যদের। পাশে পেতে চান অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকেও। যারা মা-বাবার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সামাজিক কাজকে অবলম্বন করে। যার মধ্যে দিয়ে থাকবে আগামী পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার একটা প্রচেষ্টা।
2
বাল্যবিবাহ রোধে ও কৈশোরকালীন মাতৃত্ব বন্ধে বিদ্যালয়ে সচেতনতা সভা
বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে দীর্ঘকালীন এক সমস্যা। আর এই বাল্যবিবাহের কারণেই কৈশোরকালীন মাতৃত্বের হার বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে একদিকে যেমন অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, তেমনই আবার ছাত্রছাত্রীদেরও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই কারণেই খন্ডঘোষ ব্লকের উখরিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়। অপার্থিব ইসলাম বলেন, আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহের বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষ করে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অনেকেই আর্থিক কারণে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন। ফলে তাদের কুমারী মাতৃত্বের শিকার হতে হয়। যা একজন মা ও শিশুর পক্ষে যথেষ্টই ক্ষতিকারক। এই ধরনের ঘটনা দুজনকেই অনেক সময় মৃত্যুমুখে এনে দাঁড় করায়। বিদ্যালয় শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে এই সচেতনতা শিবিরের গুরুত্ব তাই যথেষ্ট।বিশ্বনাথ রায় বলেন, খন্ডঘোষ ব্লকে বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ধারাবাহিক প্রচার কর্মসূচী চলছে।


