বারুইপুর কাণ্ডের চার দিনের মধ্যেই পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা শুভেন্দুর
বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল এলাকা। ঘটনার পর সূর্যপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দাবি মেনে মাত্র চার দিনের মধ্যেই এলাকায় নতুন পুলিশ আউটপোস্ট বা ফাঁড়ির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়। দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ নামে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। তাঁর পরিবারের পাশেও থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, “অপরাধীদের শাস্তি চেয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন, আমি খুশি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আর কী কথা হয়েছে, সেটা মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন। তবে দোষীদের শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই।” মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। গণপিটুনির মামলায় এর আগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। শুক্রবার রাতে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্য দিকে, বারুইপুরের ফুটবল মাঠে উত্তেজনার ঘটনায় নিহত এক নাবালকের পরিবারের সঙ্গেও এসপি অফিসে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও কাজ ফেলে রাখি না। আগে যে কোনও ঘটনায় অভিযুক্তরা নেপাল বা বাংলাদেশে পালিয়ে যেত। এখন সেটা হয় না।”
নির্যাতিতার পরিবারের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আমিই নির্যাতিতার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। ওঁরা কোনও প্ররোচনায় পা দেননি। রাজ্য সরকারের উপর ভরসা রেখেছেন।”


