আজ সারাদিন | ছাত্র খুন থেকে তারাতলা ধস, নির্যাতিতা কাণ্ডে রাজনৈতিক তরজা


1
বারুইপুর ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ।হাসপতালে বিক্ষোভ।

বারুইপুরের উকিলপাড়া এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বচসার জেরে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর বারুইপুর থানার পুলিশ তিন অভিযুক্তকে আটক করেছে। আরও দুই অভিযুক্ত পলাতক। নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান এবং কুলপি রোড অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পলাতক দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

2
বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে নওশাদ সিদ্দিকী

বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গেলেন নওশাদ সিদ্দিকী। সেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বারুইপুরের সূর্যপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ঘটনার পর অভিযুক্তকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন নওশাদ।
তার অভিযোগ, বিজেপি সরকারও তৃণমূল সরকারের আমলের মতোই অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, পুলিশও সেই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকার এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, যাতে রাজ্যের কোনও পরিবারের মেয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার শিকার না হন। নারীরা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

3
বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংসদ সায়নী ঘোষ।

মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সেখানে প্রথমে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। তাঁদের ‘গদ্দার, বেইমান, বালিশচাটা’ বলে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন। পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথাও বলেন। ঋতব্রতদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়েছিলেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে অখ্যাত রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সায়নী ঘোষরা।
বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন সাংসদ সায়নী ঘোষ ও তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়ে “বিশ্বাসঘাতক”, “গদ্দার”, “বেইমান” সহ বিভিন্ন স্লোগান তোলেন। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় সায়নী ঘোষকে এলাকা থেকে বের করে আনা হয়।

মঙ্গলবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধিদলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষদস্তিদার ও সায়নী ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

4
মেসি ম্যাচ কাণ্ডে আবারও তলব অরূপ বিশ্বাসকে

মেসি ম্যাচ-কাণ্ডের তদন্তে ফের বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তদন্তের স্বার্থে তাকে তৃতীয়বার তলব করেছে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে খবর, অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে স্টেডিয়ামের মাঠের ভিতরে বহু মানুষকে প্রবেশ করিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর আরও অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২২ হাজার টিকিট নেওয়া হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত প্রবেশের জেরেই স্টেডিয়ামের ভিতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গোলযোগের সূত্রপাত ঘটে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এদিন অরূপ বিশ্বাসকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন তদন্তকারীরা। এর আগেও দু’দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আগের বয়ানের সঙ্গে এ দিনের বক্তব্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না। তদন্তের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহই এই জিজ্ঞাসাবাদের মূল উদ্দেশ্য বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

5

তারাতলার বহুতল ধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাহীন নির্মীয়মাণ ভবনের বিশেষ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দায়িত্বও সরকার নেবে।