1
মনসা মাতার পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর দামোদরপাড়া
আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন শহরে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, জগদ্ধাত্রী, সরস্বতী থেকে শুরু করে কার্তিক, গণেশ, শিব এইসব দেবদেবীর পুজো খুব ঘটা করে হয়ে থাকে। তবে শহরের বাইরেও গ্রামীণ বাংলার একটা বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে, যেখানে অনেক না জানা দেবদেবীর পূজার্চনা হয়ে থাকে বছরের পর বছর। এই সমস্ত পুজোকে কেন্দ্র করে সেইসব গ্রামীণ এলাকায় মেলা বসে, উৎসব-অনুষ্ঠান হয়, গ্রামের ঘরে ঘরে আত্মীয় কুটুম্বরা এসে উপস্থিত হন। তেমনই একটি পুজোর কথা আমরা আজ এখানে তুলে ধরছি।
পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ১ ব্লকের অন্তর্গত দামোদরপাড়ায় মা মোনাইচন্ডী মনসা মাতার পুজোর আয়োজন করা হয়েছে আষাঢ় মাসের প্রথম পঞ্চমী তিথিকে কেন্দ্র করে। এ প্রসঙ্গে এই পুজোর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত জানান, প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এই মনসা পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এই দিনে হাজার হাজার মানুষ এখানে এসে উপস্থিত হন। তারা প্রত্যেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মায়ের পুজো দেন। এই গ্রাম তো বটেই এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকেও এই পুজোকে কেন্দ্র করে পুন্যার্থীরা দলে দলে উপস্থিত হন। যে সমস্ত মানুষজন এই গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাইরে দূরে কোথাও বসবাস করেন, তারাও পুজোর সময় নিজেদের গ্রামে ফিরে আসেন। সকলের উপস্থিতিতে এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে। এই মনসা মাতার পুজো উপলক্ষ্যে খুব বড় মেলা বসে এখানে। একদিকে যেমন থাকে নানান খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান, তেমনই আবার নানান খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রী নিয়ে দোকানিরা মেলায় এসে উপস্থিত হন। কেনাবেচা ভালোই হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর মুখার্জী বলেন, এই মনসা মায়ের পুজোকে কেন্দ্র করে সমগ্র গ্রাম উৎসবে মেতে ওঠে। গ্রামীণ এই উৎসবের অংশীদার হতে পেরে নিজেদেরও ভালো লাগে। বছরের এই বিশেষ দিনে অনেক আপনজনকে দীর্ঘদিন পর দেখার সুযোগ হয়। ভিন গ্রামের মানুষরাও দলে দলে এসে উপস্থিত হন। সকলের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি একটা আনন্দঘন পরিবেশ গড়ে তোলে। যা আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতির একটা ধারা বলেই মনে হয়। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতাই এখানে প্রাধান্য পায়।
2
২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে মানস ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দেওয়াল লিখন শুরু রায়ানে
প্রতিবছরের মতো এবছরও ২১ জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শহীদ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। আর এই সভাকে সফল করার লক্ষ্যে রাজ্যের সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রচার কর্মসূচী শুরু হয়ে গেছে। এই প্রচার কর্মসূচীর অঙ্গ হিসেবে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে একুশের সভাকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত রায়ান গ্রামে। এখানে ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে মানস ভট্টাচার্য বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে দেওয়াল লিখনের মধ্য দিয়ে প্রচারের কাজ শুরু করলাম। এরপর সভা-সমিতি, মিটিং, মিছিল করা হবে। ২১ জুলাই এই ব্লকের ১৯৭ টি বুথ ও নটি অঞ্চল থেকে তৃণমূলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা দলে দলে কলকাতার ধর্মতলায় উপস্থিত হবেন। শহীদ স্মরণ সভাকে সফল করার লক্ষ্য নিয়ে তারা সেদিন ট্রেনে, বাসে ও অন্যান্য যানবাহনে চেপে সঠিক গন্তব্যস্থলে পৌঁছবেন।


