1
স্মার্ট মিটার নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত
রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাড়িতে ও অফিসে স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণসংগঠনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ওঠায় রাজ্য সরকার আপাতত স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতৃত্ব তথা চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা ছিল। প্রিপেইড সিস্টেম হওয়ায় স্মার্ট মিটার বসালে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষরা দারুণ সমস্যায় পড়তেন। কারণ এক্ষেত্রে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা গ্রাহকের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। কেবল তিনি যে অর্থ প্রিপেইড সিস্টেমে জমা দিতেন সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচা হয়ে গেলেই বিদ্যুতের সংযোগ চলে যেত। ফলে দারুণ সমস্যায় পড়তেন গ্রাহকরা। তাই এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। আমরা কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পথে নেমে আন্দোলন করেছি। রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়েছি, যাতে স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়টি বন্ধ রাখা হয়। সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শ্যামাদাস বাবু বলেন, তবে একটা সমস্যা থেকে গেছে। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত বাড়ি, দোকান ও অফিসে স্মার্ট মিটার বসানো হয়ে গেছে সে সম্পর্কে কোনো বার্তা সরকার দেয়নি। আমাদের দাবি সকলের সমান অধিকার রয়েছে। কিছু মানুষ ডিজিটাল মিটারের সুবিধা পাবেন, আর কিছু মানুষকে স্মার্ট মিটারের দুর্ভোগ পোহাতে হবে সেটা হয় না। তাই রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে বসানো স্মার্ট মিটারগুলি খুলে নেওয়া হোক। পুনরায় সেখানে ডিজিটাল মিটারের সংযোগ দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। তা নাহলে আবারও কংগ্রেস পথে নেবে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে উল্লেখ করেন শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
2
আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে
আষাঢ়স্য প্রথম দিবসের সকালে বৃষ্টি না হলেও এদিন গভীর রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয় বঙ্গে। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও বিভিন্ন প্রান্তে মেঘলা আকাশ আষাঢ়ের দ্বিতীয় দিনের সকালকে বর্ষনমুখর করে তোলে। আর বৃষ্টি দেখে আবেগপ্রবণ বাঙালি মন নেচে ওঠে আনন্দে। কচিকাঁচারা এই দিনে বৃষ্টিস্নাত হয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। কিশোরেরা চায় খেলার মাঠে এই দিনটিকে একেবারে অন্যরকম ভাবে উপভোগ করতে। আর যৌবন মন এই বর্ষণমুখর দুপুরে গেয়ে ওঠে একখানা মেঘ ভেসে এলো আকাশে, এক ঝাঁক বুনো হাঁস পথ হারালো, একা একা বসে আছি জানালা পাশে, সে কি আসে আমি যারে বেসেছি ভালো।
এদিকে যৌবন যখন ভেসে চলে মন যমুনার পথে তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানুষটি ছাতা মাথায় গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলেন অফিস পথে। কারণ তার উপরেই তো নির্ভর করে থাকে পরিবারের চার-পাঁচটি মুখ। এদিকে পরিবারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্না ঘরে খুন্তি নেড়ে যে মা-বোনটি সকলের মুখে অন্ন যোগানোর ব্যবস্থা করেন, এই বৃষ্টি তাদের হাত ধরে একটু স্বাদ বদল ঘটায় প্রত্যেকের মুখে। আষাঢ়ের শুরুতে প্রথম বৃষ্টির দিনটি তাই খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, আর ডিম ভাজায় তৃপ্তি আনে রসনায়।
এদিকে এতো যে আয়োজন এই খাওয়া দাওয়ার, সেই চাল, ডাল, সবজি এই সবই তো কৃষিজাত সামগ্রী। আর আষাঢ়ের শুরুতে এই বর্ষণমুখর দিনটি এই বাংলার চাষী ভাইদের কাছে বড় আনন্দের দিন, বড় খুশির দিন, বড় আশার দিন। তাই ভোর হতেই লাঙল হাতে চাষী আর চাষী বউ বেরিয়ে পড়ে মাঠের পানে। মানুষের বেঁচে থাকার রসদ যে অন্ন, তার সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তারা তখন মাতোয়ারা।
আর এই সব কিছুকে মিলিয়ে মিশিয়ে তখন কবির লেখনী বলে — বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি এ কোন অপরূপ সৃষ্টি। এত মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি, আমার হারিয়ে গেছে দৃষ্টি।


