পূর্বস্থলীতে প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলালেন মন্ত্রী | খন্ডঘোষে ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিল | সারা রাজ্যের সঙ্গে জামালপুরেও ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিল | ৩২ তম শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন


1
পূর্বস্থলীতে প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলালেন মন্ত্রী

পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরৎপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হলো। ২৭ জুলাই ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষীদের উপরে অত্যাচারের প্রতিবাদে এই মিছিল সংগঠিত হয়। এই মিছিলে পা মেলান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশ মত এলাকায় এই মিছিল সংগঠিত হয়েছে। আগামী দিনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে আমরা ধারাবাহিকভাবে পথে নামবো। পূর্বস্থলী ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রাজকুমার পান্ডে বলেন, বিজেপি যেভাবে ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের উপরে আক্রমণ করছে, তার প্রতিবাদে আমরা পথে নেমেছি। আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে চলবে।

2
খন্ডঘোষে ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিল

পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকে ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে এক প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। এই মিছিলটি শুরু হয় স্থানীয় গুইর ক্যানেল পুল থেকে। মিছিল শেষ হয় গুইর রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে। মিছিল শেষে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অপার্থিব ইসলাম। ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। অপার্থিব ইসলাম বলেন, ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষীদের উপরে অন্যায় ভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। সেখানকার পুলিশ বাংলাভাষীদের ধরে বিএসএফের হাতে তুলে দিচ্ছে। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরফলে ভারতের নাগরিকরা বাংলাদেশ চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এক ভয়ঙ্কর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে সোচ্চার হবার কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা কলকাতায় একুশ জুলাইয়ের সভামঞ্চ থেকে তাদের পাওয়া এই বার্তাকে সাথী করে এখানে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করেছি। ভবিষ্যতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে চলবে।

3
সারা রাজ্যের সঙ্গে জামালপুরেও ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিল

গত ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই দলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্যে আক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ করে বিভিন্ন কর্মসূচী বেঁধে দিয়েছেন। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে সারা রাজ্যের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরেও ১৩ টি অঞ্চলে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। প্রতিটি অঞ্চলেই উপস্থিত থাকেন ব্লক নেতৃত্বরা। আবুঝহাটি ২ অঞ্চলে মিছিলে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে পা মেলান ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহেমুদ খান। ছিলেন প্রধান ঝর্ণা দেবী, অঞ্চল সভাপতি রমেন্দ্রনাথ কোনার সহ নেতৃত্বরা। প্রায় ২৫০০ – ৩০০০ হাজার কর্মী-সমর্থক এই প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন। জামালপুর ১ অঞ্চলে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, উপ প্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল, অঞ্চল সভাপতি আলিম শেখ সহ অন্যান্যরা। কার্যকরী সভাপতি ভূতনাথ মালিক আবুঝহাটি ১ ও পারাতল ২ অঞ্চলে গিয়ে এই প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন। ছিলেন দুই অঞ্চল সাভাপতি তরুণ কান্তি ঘোষ ও আনোয়ার সরকার, প্রধান রমজান শী ও মারিয়া বেগম শেখ। জারোগ্রাম অঞ্চলে অঞ্চল সভাপতি আলাউদ্দিন শেখের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিলে প্রচুর সংখ্যায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা মিছিলে পা মেলান। ছিলেন সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি ওয়াসিম সরকার। এছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিট্টু মল্লিক, দুই জেলা পরিষদ সদস্যা শোভা দে ও কল্পনা সাঁতরা তাদের নিজের নিজের অঞ্চলে প্রতিবাদ মিছিলে পা মিলিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন।

ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই ২৭ জুলাই ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের উপর আক্রমণের ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মতো এদিন ব্লকের প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়।

বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি বলেন, বাংলাকে বরাবরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বঞ্চনা করে আসছে। এখন আবার নতুন ভাবে বাঙালিদের বাংলাদেশী বানিয়ে দেবার চক্রান্ত করছে। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই দলনেত্রীর নির্দেশে তার বিধানসভার প্রতিটা অঞ্চলেই প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে।

4

৩২ তম শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন

বর্ধমান উৎসব ময়দানে শুরু হলো ৩২ তম শ্রাবণী মেলা। এই মেলার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সনদষৎ বক্সী, সমাজসেবী স্বরাজ ঘোষ, জয়দেব মুখার্জী, সমরজিৎ দাস প্রমুখ। এদিন প্রারম্ভিক পর্বে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশিত হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে মেলার অনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক খোকন দাস বলেন, এবার ৩২ তম শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন হলো। এই মেলা দীর্ঘদিন ধরে উৎসব ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বহু মানুষের রুটিরুজি এই ধরনের মেলার উপর নির্ভরশীল। ফলে শ্রাবণী মেলার এক্ষেত্রে একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

পরেশ সরকার বলেন, উৎসব ময়দানে এই সময় থেকে বিভিন্ন মেলা শুরু হয়। মেলা চলে প্রায় মার্চ এপ্রিল মাস পর্যন্ত। শহরের মানুষের সমাগমে এই মেলা প্রাঙ্গণ জমে ওঠে। এবার এই মেলা কুড়ি দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আয়োজকদের পক্ষে চিরঞ্জীব সরকার বলেন, শ্রাবণী মেলার আপাতত কুড়ি দিন অনুমতি পাওয়া গেছে। পরবর্তী পর্যায়ে মেলার সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। এই মেলা রথ থেকে দুর্গোৎসবের মধ্যবর্তী যে সময় সেই সময়কালে বিভিন্ন দোকানিদের বেচাকেনার সুযোগ করে দেয়।