পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের জন্য মকর সংক্রান্তিতে মধ্যাহ্নভোজন II পিঠেপুলি পার্বণ উৎসবে তেজগঞ্জ হাই স্কুল

1
পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের জন্য মকর সংক্রান্তিতে মধ্যাহ্নভোজন

এবছর মকর সংক্রান্তির পুণ্যদিনটি একটু অন্যরকম ভাবে কাটলো তাদের। তারা বলতে বর্ধমানের নবাবহাটের তালপুকুরে আমার পাঠশালার সুবিধা বঞ্চিত,পিছিয়ে পড়া শিশু ও তাদের অভিভাবক – অভিভাবকারা। এমন মোট ১২০ জনের মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন করলো শ্যামসুন্দরের একটি ফুডব্যাংক l মধ্যাহ্ন ভোজনে ছিল ভাত, ডাল, পনিরের তারকারি, চিকেন ও মিষ্টি। উপস্থিত ছিলেন অরিত্র বক্সী সহ ফুডব্যাঙ্কের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। অরিত্র বলেন, এই ধরনের একটি উদ্যোগের সাথী হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আজকের এই পুণ্যদিনে এমন একটি মানবিক উদ্যোগ সার্থকতা লাভ করায় তারা প্রত্যেকেই খুব খুশি। আমার পাঠশালা-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ পাঠক ও রাজকুমার লাহা। সন্দীপ পাঠক বলেন, এখানকার পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুগুলির মুখে এই দিনে একটু খাবার তুলে দিতে পেরে তারা অত্যন্ত তৃপ্তিবোধ করছেন। এই কাজে যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রত্যেককে অভিনন্দন। আগামী দিনেও তারা নিশ্চয় এমন উদ্যোগের সাথী হবেন এই প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

2
পিঠেপুলি পার্বণ উৎসবে তেজগঞ্জ হাই স্কুল

বর্ধমান শহরে পঠনপাঠনের পাশাপাশি যেসব স্কুল ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের স্বাক্ষর রাখে তার মধ্যে অন্যতম হলো বর্ধমান তেজগঞ্জ হাইস্কুল। আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরী করতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী এবং বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র কাইতি সহ সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা কর্মীর উদ্যোগে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল খাদ্য মেলা ও পিঠেপুলি পার্বণ উৎসব।
পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীতে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি থেকে তৈরী করে নিয়ে আসে নানান ধরণের পিঠেপুলি। এইসব পিঠেপুলির তালিকায় ছিল সিদ্ধ পিঠে, সরু চাকলি থেকে শুরু করে প্রদীপ পিঠে, ভেগান পিঠে, পনির পিঠে, পিঠে অরেঞ্জ,খেজুর গুড়ের পিঠে, রসমালাই, মালাই পাটিসাপটা, ভাজা পিঠে, চুষি পিঠে, পুর পিঠে, মালপোয়া, দুধপুলি, ক্ষীর পিঠে, পালং শাকের পাটিসাপটা, তেল পিঠে, গোল্লা পিঠের মতো রকমারি পিঠে। ছাত্রীরা ঢেঁকিতে পেষাই চাল গুঁড়ো দিয়ে নিজেদের অপটু হাতে যা বানিয়েছে তা এক কথায় অমৃত। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস এবং সৌমী রুজ জানায়, ” বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ধরণের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই পিঠেপুলি আমার এই ছোট্ট জীবনে আমার হাতের প্রথম রান্না। তাই এগুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে ভীষণ ভালো লাগবে”। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিম সুলতানা, শিবানী ক্ষেত্রপাল এবং পূজা কর্মকার এদের উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই। তারা এই প্রতিবেদককে জানায় তাদের এই পিঠেপুলি বানাতে মা এবং ঠাকুমারা সাহায্য করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে হলেও কি করে বানাতে হয় তারা তা শিখে নিয়েছে। তাই নবসৃষ্টির আনন্দে তারা মাতোয়ারা । আনন্দের কথা বিদ্যালয়ের তরফেও আজ মিড ডে মিলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পিঠে পুলির আয়োজন করা হয়। এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বরূপ দাস জানান,”রসনা প্রিয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব এই পিঠে পুলি পার্বণ উৎসব। তাই এই আনন্দের দিনে  পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি সহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত কোন ছাত্র-ছাত্রী  যাতে এই পিঠেপুলির স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য এই আয়োজন।”
যাইহোক এই পিঠে পুলি উৎসবের আয়োজনকে প্রাণভরে উপভোগ করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন সর্বশিক্ষা মিশনের কোঅডিনেটর সহ জেলা শিক্ষা আধিকারিক মাননীয়া পৌষালি চক্রবর্তী মহাশয়া। তিনি এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন “রন্ধনের মধ্যেই জড়িয়ে থাকুক ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসার বন্ধন। পঠন পাঠনের পাশাপাশি  এই ভাবেই সৃজনশীলতা চলতে থাকুক। শীতের হাওয়ায় লাগুক আগুন আমলকির ঐ ডালে ডালে। পত্র পুষ্পে শোভিত হোক তেজগঞ্জ হাইস্কুল”। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো জানান ” তেজগঞ্জ  হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সত্যিই আমাকে অবাক করে দিয়েছে। ওদের ভালোবাসা, আতিথেয়তা এবং সহজ সরল সত্যবাদিতার সাথে অভিনব চিন্তা ভাবনা আমাকে মোহিত করেছে