পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোর বিরুদ্ধে ২৪ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ধুঁকছিল পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। অবশেষে সেই সুপ্ত অসন্তোষই এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিল। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন পরিষদের ২৪ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। শুক্রবার মেদিনীপুর বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে এই অনাস্থা পত্র জমা দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর থেকেই পুরুলিয়া জেলা পরিষদের অন্দরে এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। অনাস্থা আনা সদস্যদের মূল অভিযোগ, সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য এবং বিভিন্ন কর্মাধ্যক্ষদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছিলেন। তাদের সঙ্গে সমস্ত রকম যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বিক্ষুব্ধ সদস্যদের দাবি, সভাধিপতির এই একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং সমন্বয়ের অভাবের কারণে জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
জনপ্রতিনিধিদের এলাকাভিত্তিক অনুমোদিত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল।
একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ জানালেও কোনো কাজ হয়নি।
উন্নয়ন থমকে যাওয়া এবং টানা উপেক্ষিত থাকার জেরেই শেষ পর্যন্ত সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিকে পদ থেকে অপসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন পরিষদের ২৪ জন সদস্য। মেদিনীপুর কমিশনারের অফিসে এই অনাস্থা জমা পড়ার পর এখন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


