এলাকার শিশু-কিশোরদের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিল অনাথ আশ্রমের আবাসিকরা II গ্রামীণ অর্থনীতিতে মেলা ও উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীমঃ জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ II পুজোকে কেন্দ্র করে রক্তদান শিবিরের অভিনব উদ্যোগ

1
এলাকার শিশু-কিশোরদের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিল অনাথ আশ্রমের আবাসিকরা

বর্তমান সময়ে যে আত্মকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বড়ো হচ্ছে, তার থেকে অনেকটাই নিজেদের সরিয়ে রাখতে পেরেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার অন্তর্গত দামোদর পাড়া সমাজকল্যাণ হোম অনাথ ও বৃদ্ধাশ্রম মানসিক শান্তি ও বিকাশ কেন্দ্রের কচিকাঁচা আবাসিকরা। প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাদের উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছিল সরস্বতী পুজোর। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তারই আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বছরও এখানে আয়োজিত সরস্বতী পুজোয় যেমন হোমের আবাসিকরা অংশগ্রহণ করেছিল, তেমনই তাদের আমন্ত্রণে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছিল পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশু-কিশোররাও। পুজোর আয়োজনে হাত লাগিয়েছিল এখানে থাকা আবাসিক ছেলেমেয়েরা। আর পুজোর ভোগ তারা নিজেদের পাশাপাশি তুলে দিয়েছিল পার্শ্ববর্তী এলাকার ছোট ছোট ভাই – বোনেদের হাতে। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে মায়ের ভোগ খেয়ে ভরে উঠেছিল তাদের সকলের বুক। খুশিতে মেতে ওঠা এই শিশুরা একসঙ্গে বলে উঠেছিল, আসছে বছর আবার হবে। তাদের দায়িত্বে থাকা এই প্রতিষ্ঠানের সুপারিনটেনডেন্ট সমীর মুখার্জীর কথায়, এই কচি কচি শিশুগুলি এখানকার সম্পদ। স্বপনবাবু তাদের অঙ্কুর থেকে বৃক্ষে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর তাদের এই যাত্রা পথে মায়ের এই আরাধনা একটা বিশেষ পর্ব বলা চলে।

2
গ্রামীণ অর্থনীতিতে মেলা ও উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীমঃ জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ

বর্তমান সময়ে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই নানান মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এই ধরনের মেলা ও উৎসবের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি যথেষ্ট বিকশিত হয়। বহু মানুষ রুটিরুজির পথ খুঁজে পান। ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে অনেকটাই সমৃদ্ধ হতে পারেন। এমনটাই দাবি করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। এই জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকে উখরিদ উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত থেকে এই কথাগুলি বলেন তিনি। অপার্থিব বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের উৎসব ও মেলার আয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই সমস্ত উৎসব এবং মেলায় যেমন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংশ নিতে পারেন, তেমনই হস্তশিল্পীরা তাদের নানান শিল্প সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন মেলা প্রাঙ্গণে। প্রত্যেকেরই একটা আয়ের পথ তৈরী হয়। যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্রমশ চাঙ্গা করে। এদিন মেলার উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, খন্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনাবিল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা যুব নেতৃত্ব শুভেন্দু কুমার পাল সহ অন্যান্য গুণীজনেরা। মেলা প্রাঙ্গণে আগত প্রত্যেকেই এই আয়োজনের প্রশংসা করেন।

3
পুজোকে কেন্দ্র করে রক্তদান শিবিরের অভিনব উদ্যোগ

জামালপুরের জাড়গ্রাম অঞ্চলের দাসপুরে মল্লিকপাড়া প্রগতি সংঘের সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় রক্তদান শিবির। এই উপলক্ষ্যে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান। ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য শোভা দে, আলাউদ্দিন শেখ, শেখ মনতাজ, ওয়াসিম সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গফ্ফার সাহেব, সফিকুল ইসলাম, প্রধান নূরজাহান বিবি সহ অন্যান্যরা। এদিনের অনুষ্ঠানে মেহেমুদ খান বলেন, রক্তদান এক মহতী উদ্যোগ। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে প্রগতি সংঘ যে কাজ করলো তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদককে ধন্যবাদ জানান।

ক্লাবের সম্পাদক মানিক মল্লিক ও সভাপতি সাগর চন্দ্র মল্লিক জানান, আজকের এই রক্তদান শিবিরে নারী ও পুরুষ মিলে মোট ৫১ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন। সংগৃহীত রক্ত তুলে দেওয়া হয় চুঁচুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হাতে। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে কোনো ক্লাবের এই ধরনের আয়োজন এলাকার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।