৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে আটক, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি! বিষ খেয়ে আত্মঘাতী তৃণমূল নেতা, বিজেপির একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ, জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে গিয়ে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি— একের পর এক অভিযোগের জেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক তৃণমূল নেতা, এমনটাই অভিযোগ মৃতের পরিবারের।বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন বুধবার মৃত্যু হলো ওই তৃণমূল নেতার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘী থানার জাগাদাবাদ-পাঁচকুলা এলাকায়। জানা গেছে, মৃত তৃণমূল নেতার নাম স্বরূপ রানা, বয়স ৪৬ বছর। তিনি জগদাবাদ সমবায় সমিতিতে কর্মরত ছিলেন। দুবারের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন বিজেপি কর্মীর লাগাতার হুমকি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন স্বরূপ রানা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে শ্যামল হাজরা, লক্ষ্মীরাম হাঁসদা, কানাই খাঁ, গদা প্রামাণিক, অজয় খাঁ, বিশ্বনাথ ঘোষ, প্রভাকর ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ, ছন হাঁসদা সহ আরও কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসে। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন স্বরূপ রানা, তার স্ত্রী এবং নাবালিকা কন্যা। অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং স্বরূপ রানা প্রতিবাদ করতেই তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেইসময় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অভিযোগ আরও, গত ২২ জুন লক্ষ্মীরাম হাঁসদা পুনরায় ফোন করে স্বরূপ রানাকে হুমকি দেয়। এরপর ওই দিন রাত প্রায় আটটা নাগাদ হাজরাপাড়ার একটি আড়তে ডেকে পাঠানো হয় তাকে। পরিবারের দাবি, সেখানে পৌঁছনোর পর অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি কিল, চড় ও ঘুষি মারে। শুধু তাই নয়, তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে জোরপূর্বক একটি কাগজে লিখিয়ে ও স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ওই লিখিত কাগজে স্বরূপ রানার কাছ থেকে এমন একটি মুচলেকা নেওয়া হয় যাতে উল্লেখ ছিল, সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তার স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে। এই ঘটনার পর থেকেই স্বরূপ রানা চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
অবশেষে গত ২৩ জুন গভীর রাতে বাড়িতে বিষ পান করেন স্বরূপ রানা। পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় মৃতের পরিবার সরাসরি একাধিক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মারধর, হুমকি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবার দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির মুখপাত্র ডক্টর শান্তরূপ দে বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও কর্মী বা নেতা এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন না। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা তৃণমূলেরই অনুগামী বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে। তবে যদি বিজেপির কোনও ব্যক্তি এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে দল এবং প্রশাসন কোনও রং না দেখে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে”। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।



