বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা সভা | বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হল ধানের চারা


1
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা সভা

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ ব্লকের উখরিদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সরঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই আলোচনা সভার পাশাপাশি এখানে একটি কন্যাশ্রী ক্লাব কক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি অমিয় সরকার, উখরিদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপূর্ব হাজরা, উপপ্রধান প্রভাত রায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল হক সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। অপার্থিব ইসলাম বলেন, আমরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করবার জন্য বিদ্যালয়স্তর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। তাই বিদ্যালয়ের তরফ থেকে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভা থেকে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের বাল্যবিবাহের কুফল বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি এখানে কন্যাশ্রী ক্লাবের জন্য একটি সুন্দর কক্ষের উদ্বোধন করা হলো। এরফলে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা তাদের কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে। বিশ্বনাথ রায় বলেন, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার যে উদ্যোগ তা গ্রহণ করছি। ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল বলেন, এই ধরনের আলোচনা ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট সচেতন করবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়ে তারা নিজেরা অগ্রণী ভূমিকা নেবে।

2
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হল ধানের চারা।

প্রায় দেড় মাস ধরে একটানা বৃষ্টি চলছে দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। এর ফলে পূর্ব বর্ধমান জেলার অনেকগুলি ব্লকেই ধান চাষে ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তর জামালপুর ব্লকের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ালো। ১৫১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হাতে পুনরায় রোপণ করার জন্য ধানের চারা তুলে দেওয়া হল। ইতিপূর্বে এই ব্লকের বেশকিছু জায়গায় রোপণ করা ধানের চারা জলের তলায় চলে যাওয়ায়, চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি জেনে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা নেন। এরপর অতিরিক্ত ধানের চারা সংগ্রহ করে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকের কৃষকদের কাছে। তেমনই জামালপুর ব্লকের কালেরা, সাদিপুর, সেলিমাবাদ, আবুজহাটি, পাঁচরা গ্রামের কৃষকদের হাতে ধানের চারা পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের হাতে ধানের চারা তুলে দেন জামালপুরের বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক, ব্লকের বিডিও রাহুল বিশ্বাস, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, ব্লক কৃষি আধিকারিক সনজিবুল ইসলাম, জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিঠু পাল, রমজান শী প্রমুখ। এ প্রসঙ্গে মেহেনুদ খান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে আমাদের অন্নদাতা চাষীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা মনেকরি কৃষকরা বাঁচলে তবে আমরা সকলে বেঁচে থাকতে পারবো। কারণ তারাই আমাদের অন্নের যোগান দেন। মেহেমুদ খান বলেন, এ ব্যাপারে জেলাশাসক অত্যন্ত উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ায় কৃষকরা খুব দ্রুতই নতুন ধানের চারা হাতে পেয়েছেন। বিধায়ক অলোক মাঝি বলেন, রাজ্য সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।