কালনায় টালি ও ইঁটের উপর খোদাই করা সরস্বতী প্রতিমা II দুয়ারে সরকার শিবির পরিদর্শনে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল II নদী ভাঙনে আতঙ্কিত পূর্বস্থলীর ভাগীরথী তীরবর্তী মানুষজন

1
কালনায় টালি ও ইঁটের উপর খোদাই করা সরস্বতী প্রতিমা

পূর্ব বর্ধমানের কালনার সরস্বতী পূজো বিশেষ ঐতিহ্যপূর্ণ।কালনার প্রতিটা ক্লাব সরস্বতী পুজোর সময় আকর্ষণীয় পুজো প্যান্ডেল বা থিম তৈরী করে থাকে। তেমনই বীণাপানি সংঘের এবারের পুজোর থিম ভুতের রাজা দিলো বড়, সরস্বতী মূর্তির বিশেষ আকর্ষণ টালি এবং ইঁটের উপর খোদাই করা সরস্বতী মূর্তি। এ প্রসঙ্গে শিল্পী অরিজিৎ গাঙ্গুলী বলেন, প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই অভাবনীয় চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। ভূতের রাজা দিল বর পুরো থিমটাই করা হয়েছে একটি জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও ভাঙা বাড়ি, বড় বড় গাছকে কেন্দ্র করে। থিমটি তৈরী করার সময় কোনো গাছপালাকে কাটা হয়নি, প্রতিটি গাছকে অক্ষুন্ন রেখে থিমটি তৈরীর কাজ চলছে। থিমের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হলো, পুরনো ফেলে দেওয়া ইঁট পুরনো টালির উপর খোদাই করে সরস্বতী মূর্তি নির্মাণ। শিল্পী জানান, ইঁট দিয়ে শুধু কংক্রিটের বাড়ি তৈরী হয় না। ইঁটের উপর খোদাই করে সুন্দর সুন্দর শিল্প তুলে ধরা যায়। কালনা যেহেতু একটি ঐতিহাসিক শহর এখানে টেরাকোটার কাজের প্রচুর মন্দির আছে, সেজন্য কালনার পুরনো মন্দিরগুলিকে প্রাধান্য দেবার জন্য টালি এবং পিটের উপর খোদাই করে সরস্বতী মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। যা দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

2
নদী ভাঙনে আতঙ্কিত পূর্বস্থলীর ভাগীরথী তীরবর্তী মানুষজন

পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ও কাটোয়া মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী। ইতিপূর্বে বহুবার ভাগীরথীর ভাঙনের কবলে পড়েছে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভাগীরথী পারের মানুষজন। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একের পর এক গ্রাম। বিঘের পর বিঘে চাষের জমি, আস্ত বাড়ি, ভিটেমাটি সব চলে গেছে ভাগীরথীর গ্রাসে। নিঃস্ব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। ঘর বাড়ি ছেড়ে প্রাণের ভয়ে রীতিমতো পালাতে হয়েছে গ্রামবাসীদের। নিরাশ্রয় হতে হয়েছে অনেক পরিবারকে।
এই শীতের মরশুমে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কিশোরীগঞ্জে ভাগীরথীর পারে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে ভাঙন। আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে এলাকাবাসীর। ভাঙনের ফলে নদী পারের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে আতঙ্ক বেড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকায়। এতে নদী ক্রমশ এগিয়ে আসছে জনবসতিপূর্ণ এলাকার দিকে, এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। গ্রামে যাতায়াতের রাস্তাটিও ভাঙনের কবলে পড়েছে। আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে এমনটাই আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা প্রধানত কৃষিকাজ। ভাগীরথীর পারে বিভিন্ন রকম ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। সেই সমস্ত জমিই যদি ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে চলে যায় তাহলে কিভাবে দিন কাটবে তাদের। এই ভেবেই রীতিমতো চিন্তিত এই এলাকার ভাগীরথী তীরবর্তী মানুষজন।

3
দুয়ারে সরকার শিবির পরিদর্শন করলেন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল

সারা রাজ্যজুড়ে দুয়ারে সরকার শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প পরিদর্শনে এলেন উচ্চ পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধি দল। জামালপুর ২ অঞ্চলের জামালপুর হাইস্কুলে ও চকদিঘী অঞ্চলের চকদিঘী হাইস্কুলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হয়। সেই ক্যাম্প দুটি ঘুরে দেখতে আসেন জয়েন্ট সেক্রেটারি এল আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার শম্পা হাজরা, অতিরিক্ত জেলাশাসক এল আর পূর্ব বর্ধমান বিশ্বরঞ্জন মুখার্জী, ডেপুটি ডি এল আর ও পূর্ব বর্ধমান ভূপ্রভা বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক,বিডিও পার্থসারথী দে, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, দুই প্রধান মিঠু পাল, অসীমা বাগ, শেখ আজাদ রহমান সহ অন্যান্যরা। উৎসবের আবহে এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প দেখে তারা খুব খুশী। ক্যাম্পে আগত সকল মানুষের সাথে তারা আলাদা ভাবে কথাও বলেন। মেহেমুদ খান জানান, এখানে দুয়ারে সরকার শিবির অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পে এসে এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন।