শশাঙ্ক বিল ভরাটের অভিযোগে তোলপাড়, পরিদর্শনে প্রশাসনিক আধিকারিকবৃন্দ
বর্ধমান শহরের ঐতিহ্যবাহী শশাঙ্ক বিলকে ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বাঁধলো। প্রায় ৩২০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এই জলাভূমি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। এই জলাভূমি বর্ধমানের ১০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রীপল্লী, ইছলাবাদ ও আনন্দপল্লী এই তিনটি এলাকা জুড়ে রয়েছে। এর আগেও এই জলাভূমি, ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রশাসনিক তৎপরতায় বন্ধ করে দেওয়া হয় জলাভূমি ভরাটের কাজ। আবারও এই জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ উঠলো। এই জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটি। অভিযোগ পেয়ে বুধবার প্রশাসনিক আধিকারিকরা পৌঁছোন ঘটনাস্থলে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে জেসিবি মেশিন চালিয়ে বিলের একাংশ ভরাটের কাজ চলছে। যার ফলে প্রকৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতেও এই বিল যখন ভরাটের অভিযোগ উঠেছিলো, তখন বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন, বিজ্ঞান মঞ্চ এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হলে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে ফের একই ধরনের কার্যকলাপ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছোন বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। তাঁরা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শশাঙ্ক বিল শুধুমাত্র একটি জলাভূমি নয়, এটি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, যারা এই বিল ভরাট করে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শশাঙ্ক বিলসহ জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলিকে সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জেলাবাসীর।



