1
ভ্রাম্যমান অভিভাবক সভা,অভিনব উদ্যোগ
মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের নব সংযোজন এই ভ্রাম্যমান সভা।
এখানে শিক্ষক শিক্ষিকারা মাইক্রোফোন সহযোগে পাড়ার বিভিন্ন কর্নারে, মোড়ে, চায়ের দোকানে , কোনো বাড়ির সামনে, বা কোন জমায়েত দেখলেই সেখানে মাইক্রোফোন হাতে এই ভ্রাম্যমান সভা নিয়ে হাজির হন। আসলে প্রত্যন্ত এলাকায় এই শিশুশিক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে শিশুর যত্ন, বিদ্যালয়ের যত্ন, কেন শিশুর শিক্ষা প্রয়োজন, শিশুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শিশুর সামনে ধূমপান না করা, যেখানে সেখানে প্লাস্টিক সহ অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ না ফেলা, রাস্তা বা যেকোনো খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ না করা, শিশুর বাড়ির পরিবেশ, বাবা মায়ের সম্পর্ক, মোবাইলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বাড়ির বড়রা শিশুর সাথে যাতে সঠিক আচরণ করেন, নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহ প্রদান, এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়েই এই ভ্রাম্যমান সভা। মূল উদ্দেশ্য সকল অভিভাবককে কাছে পাওয়া। আসলে প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। বিদ্যালয় যখন কোনো সভার আয়োজন করে তখন সমস্ত অভিভাবক অভিভাবিকাদের এই সভায় পাওয়া যায় না। ফলে শিশুর কি কি প্রয়োজন তাও শিক্ষক-শিক্ষিকারা সঠিকভাবে সমস্ত অভিভাবককে জানাতে পারেন না । তার ফলে মাঝে মাঝেই শিশুর নানা রকম সমস্যা তৈরি হয়। সেটা পড়াশোনা, শারীরিক অসুস্থতা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই জাতীয় সমস্যার ফলে সামগ্রিকভাবে শিশু পিছিয়ে পড়ে, সামগ্রিকভাবে বিদ্যালয় পিছিয়ে পড়ে, সামগ্রিকভাবে বুনিয়াদি শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। এই সমস্ত বিষয়ে মাথায় রেখে বিদ্যালয়ের সমস্ত অভিভাবককে কাছে পেতে বিদ্যালয়কেই অভিভাবকের সামনে উপস্থিত করেছেন মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ভ্রাম্যমান সভার মাধ্যমে যেখানে বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলী এবং বিদ্যালয়ে পরিচালন সমিতি সকলে মিলে উপস্থিত থেকে শিশু শিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যাতে করা যায় তারজন্য সকলের কাছে সম্মিলীত আহ্বান জানাবেন এই ভ্রাম্যমান অভিভাবক সভার মাধ্যমে। আশা করা যায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব এই প্রকল্প চালু রাখতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত এই গ্রামের শিশু শিক্ষার হাল ফিরবেই বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার।
2
এস এফ আই- এর উদ্যোগ
২২ আগষ্ট এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির উদ্যোগে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তর রাজবাটী ক্যাম্পাস গেটে স্নাতক স্তরের অ্যাডমিশন শেষ করে ক্লাস শুরু, স্নাতক ষষ্ঠ সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের মান্যতা দেওয়া ও পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন, WBJEE এর দ্রুত ফল প্রকাশ, NEET UG এর কাউন্সেলিং করে ক্লাস শুরুর দাবিতে ছাত্র কনভেনশন হল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা নিম্নচাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করে এই কনভেনশনে অংশগ্রহণ করে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা কলেজে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় গেটের এই ছাত্র কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীর ভৌমিক। এদিনের সভার শুরুতে বক্তব্য রাখে UG স্তরের প্রথম বর্ষে কলেজে ভর্তি না হতে পারা পড়ুয়া স্বপ্নময় ঘোষ, জয়া মাঝি। এরপর বক্তব্য রাখেন ষষ্ঠ সেমিস্টারের রেজাল্ট না পাওয়া ছাত্র চিন্ময় কর্মকার। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামোর সমস্যা ও NEET UG এর কাউন্সেলিং স্থগিত করার ফলে ভুগতে থাকা ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ছাত্র সম্প্রীত দত্ত। এছাড়াও এদিনের ছাত্র কনভেনশনকে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সন্তোষ কুমার পাল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের রূপক মাজিল্লা এবং রাজ্য কলেজ শিক্ষাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মুন্সী মুশারফ হোসেন। এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদিকা উষসী রায় চৌধুরী। ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সমাধানের দাবিতে এসএফআই এর লড়াইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের এরূপ অংশগ্রহণ আগামীদিনে বৃহত্তর সংগঠিত আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে। এদিন কলেজে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একটি বিশেষ জার্নাল প্রকাশ করে এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটি


