1
সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড স্মরণে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন মন্ত্রীর
১৯৭০ সালের ১৭ মার্চ বর্ধমানের তেলমারুই পাড়া সংলগ্ন এলাকায় খুন হয়েছিলেন একই পরিবারের দুই ভাইসহ পরিবারের এক গৃহ শিক্ষক। যা রাজনৈতিক ইতিহাসে সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড নামে পরিচিত। জানা যায়, সেদিন সিপিএমের একটি মিছিল থেকে সাঁইবাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় নিহত হন দুই ভাই মলয় সাঁই ও প্রণব সাঁই। একইসঙ্গে মারা যান গৃহ শিক্ষক জিতেন রায়। অভিযোগ, পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৭২ সালের ১২ জুন এই পরিবারেরই সন্তান নবকুমার সাঁইকেও হত্যা করা হয়েছিল। অভিযোগের আঙুল ওঠে সেই সিপিএমের দিকেই। এদিকে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডকে স্মরণে রেখে প্রতিবছর বর্ধমানের সাঁইবাড়ি প্রাঙ্গণে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বছরও এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার, প্রাক্তন বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রামাণিক, প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু, প্রবীণ তৃণমূল নেতা প্রণব চ্যাটার্জী প্রমুখ। শহীদদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা। স্বপন দেবনাথ বলেন, সারাদেশে এই ধরনের নারকীয় হত্যাকাণ্ড খুব কম দেখা গেছে। এই ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনে সেই সময় ছুটে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তিনি বলেন, এই ধরনের পৈশাচিক ঘটনার বিষয় আজকের প্রজন্ম সেইভাবে অবহিত নন। তাদের কাছেও এই ঘটনার কথা তুলে ধরা দরকার। সিপিএমের পরবর্তী ৩৪ বছরের শাসনকালেও বহু কংগ্রেস কর্মী সিপিএমের হাতে খুন হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস দল গঠন করার পর তৃণমূল কর্মীদেরও খুন হতে হয়েছে সিপিএমের হাতে। আজ সেই দিনের পরিবর্তন ঘটেছে।
উজ্জ্বল প্রামাণিক বলেন, সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সিপিএমের আসল চরিত্র। যে নারকীয় ঘটনা সেদিন ঘটেছিল তা জেনে শিউরে উঠতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই এই শহীদ পরিবারদের পাশে থাকার কথা বলেছেন। শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার কথা বলেছেন। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১৭ মার্চ শহীদ দিবসে প্রতিবছর এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
2
কালনা মহকুমা জুড়ে দোল উৎসব পালন
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরে উদীচির উদ্যোগে শহরের সমস্ত সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। ১০৮ শিব মন্দির থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটায় শোভাযাত্রা শুরু হয়ে কালনা মহিষমর্দিনী হাইস্কুলের মাঠে পৌঁছোয়। সেখানেই সারাদিন ধরে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। একই সঙ্গে চলে আবীর খেলা। আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম অসীমা তালুকদার সহ শহর এবং শহরের বাইরের বিভিন্ন মানুষ এদিন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের দূরের বলাকা-র অধ্যক্ষা দোলা মজুমদার শ্রীরামপুর ব্লক অফিসের আম্রপুঞ্জে এক ঝাঁক শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেন। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সেখানে দোল এবং বসন্ত উৎসব উদযাপন করা হয়। পারুলিয়া আনন্দলোক অত্যন্ত মনোজ্ঞ পরিবেশে বসন্ত ঝ্যন্ত টপিকউৎসব উদযাপন করে। একইভাবে বিদ্যানগর ময়ূরী নৃত্যশিক্ষা কেন্দ্রও তাদের বসন্ত উৎসব উদযাপন করে খাল বিল উৎসব প্রাঙ্গণের আম্রকুঞ্জে। পরিক্ষিত বালা, বিপ্লব পাল সহ বিশিষ্টজনেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ময়ূরী নৃত্য শিক্ষাঙ্গনের অধ্যক্ষা মৌমিতা মন্ডল। সুরমেলা শ্রীরামপুর, তারাও এ বছর অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বসন্ত উৎসবের আয়োজন অধ্যক্ষা চম্পা দে সহ বিশিষ্টজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে এবারের দোল উৎসব এক অন্য মাত্রা এনে দেয়।


