প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ নির্বাচন II প্রেম দিবসে ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা এসএফআই-এর

1
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ নির্বাচন

পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসীর কুড়মুনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ নির্বাচন-2025 অনুষ্ঠিত হলো । বিদ্যালয় পরিচালনায় এই শিশু সংসদের গুরুত্ব অনেক। সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় ঘটানো এবং মূল্যবোধের সঙ্গে নেতৃত্বদান, দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিই হলো এর মূল উদ্দেশ্য। ভোটদানের গুরুত্ব, নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এগুলো মাথায় রেখে বিদ্যালয়ে এই নির্বাচন করা হয় । বিদ্যালয়কে ফুল গাছ, পতাকা, ব্যানার, ফ্লেক্স দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়। ভোট কক্ষও সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। এককথায় মডেল পোলিং স্টেশন বলতে যা বোঝায়। ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মনোনয়ন পত্র দাখিল করা, পোলিং এজেন্ট, ভোটার তালিকা, ব্যালট পেপার, ভোট কক্ষ, ব্যালট বাক্স, গণনা প্রেস কনফারেন্স, সার্টিফিকেট প্রদান থেকে শপথ নেওয়া সবটাই হয়, যেভাবে আমাদের সাধারণ নির্বাচনে হয়ে থাকে। প্রত্যেকেই স্কুলের পরিচয় পত্র দেখিয়ে ভোট দেয়। ভোট কক্ষের বাইরে শিশুদের দিয়েই পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়। স্কুল প্রাঙ্গণে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র রাখা হয়। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব কুমার হুই বলেন, ছাত্রছাত্রীরা এই ধরনের শিশু সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে দিয়ে তারা সংসদীয় রাজনীতির যে নিয়ম-কানুন তা খুব ছোট বয়স থেকেই শিখতে পারছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের ধ্যান-ধারণা গড়ে উঠছে শৈশব থেকেই। তাই এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এটা তাদের জীবনের একটা বড় অধ্যায় বলেই মনে করছি আমরা। এদিন উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ নির্বাচনের যে অপরিসীম গুরুত্ব সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকেই তিনি ভবিষ্যতের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

 

2
প্রেম দিবসে ঘৃণার বেড়াজাল ভেঙে মানুষকে ভালোবাসার বার্তা এসএফআইয়ের

১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি বর্তমান সময়ে প্রেম দিবস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এখন চলছে প্রেমের সপ্তাহ৷ শহর জুড়ে যুগলদের আনাগোনা ৷ কিন্তু, বর্তমানে রাজ্য তথা দেশজুড়ে ভালোবাসার মানুষদের একসঙ্গে থাকায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে জাতি, বর্ণ, সম্প্রদায়কে। তার সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের বারবারন্ত। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে ভ্যালেন্টাইন্স-ডে’র দিন ঘৃণা ভুলে ঐক্যের দাবিতে পথে নেমেছে এসএফআই ৷ এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্ধমান শহর লোকাল কমিটির যৌথ উদ্যোগে বর্ধমান শহর তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণসায়র পার্কসহ ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় ‘প্রেম দিবসে ক্যাম্পাসে ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্য গড়’, ‘বয়কট অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’ লেখা প্ল্যাকার্ড সহ বিভিন্ন হাতে লেখা পোস্টারের মাধ্যমে, ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে যুগল ও পথচলতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তারা। এদিন কৃষ্ণসায়র পার্কের সামনে প্ল্যাকার্ড টাঙানো নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হলে সেই বাধা অতিক্রম করেই প্ল্যাকার্ড টাঙানো হয়। আরজি করের ঘটনার বিচারহীন ১৮৯ দিনে রাস্তায় পথ চলতি সাধারণ মানুষকে “বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসার দিনে ন্যায়ের পক্ষে বিচার চাই” লেখা ব্যাচও পরানো হয়। আরজিকরের বিচারের দাবিতে এই ব্যাচ পড়ানোর কর্মসূচীতে পথচলতি সাধারণ মানুষ ভালো সাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এসএফআই নেতৃত্ব। এ বিষয়ে এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক উষসী রায় চৌধুরী বলেন,”দুনিয়াজুড়ে বিভিন্ন মৌলদাবী সংগঠন এবং আমাদের দেশের ক্ষেত্রে আরএসএস ঘৃণার রাজনীতি ছড়াচ্ছে, মানুষে মানুষে বিবাদ বাড়াচ্ছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ সব কটি কলেজ ক্যাম্পাসেই শাসক দলের মদতে এই দুর্নীতি, অপসংস্কৃতির রাজনীতি চলছে। এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের এক হতে হবে। আজ প্রেম দিবসে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি, ঐক্য বাড়ানোর কথা বলতে এসেছিলাম আমরা। আমাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বাধা অতিক্রম করেই কর্মসূচী হয়েছে। অভয়ার বিচারের দাবিতেও লড়াই জারি আছে। অভয়ার বিচারের দাবিতে ব্যাচ পরানোর কর্মসূচীতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।” বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির সম্পাদক সোমনাথ মন্ডল বলেন, ” ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসাই জবাব হোক “। আমরা দেখেছি কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দক্ষিণপন্থী সরকার নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধক কর্তৃক প্রচারিত বিভাজন এবং ঘৃণার রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘লাভ জিহাদ’ এবং দেশের ক্যাম্পাসগুলিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনের যে নোংরা রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে তার বিকল্প হিসেবে ভালোবাসা দিবসে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। এদিনের কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান শহর লোকাল কমিটির সম্পাদক অমৃত রায়, সভাপতি সৌরভ দাস, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির সভাপতি রানা দাস সহ অন্যান্যরা। এর পাশাপাশি এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে “ধর্মান্ধতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রেমে থাকুন, প্রেমের গান শুনুন” ট্যাগলাইন “ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রেমের গান”, যেখানে কিউআর স্ক্যান করলেই শোনা যাচ্ছে জোট বাঁধার গানের প্লে লিস্ট। যা বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হয়েছে।