1
পালিত হলো বিশ্ব ধরিত্রী দিবস
২২ শে এপ্রিল ছিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস বা ওয়ার্ল্ড আর্থ ডে। আগামী দিনে পৃথিবীকে দূষণ মুক্ত রাখতে ও এ বিশ্বকে নবজাতকের কাছে বাসযোগ্য করতে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি রণপা ধামসা মাদল সহযোগে এক বর্নাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করে। প্রায় ১৫০ জন মানুষ স্বেচ্ছায় এই পদযাত্রায় সামিল হন। এই পদযাত্রাকে সমর্থন করে এগিয়ে আসে আরও বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যেমন ডঃ আব্দুল কালাম ট্রাস্ট ফর এডুকেশন এণ্ড চ্যারিটি, বর্ধমান সোসাইটি ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার, রুরাল হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন প্রমুখ। পদযাত্রায় প্রান্তিক মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন ৭৫ বছর বয়সী কাজী গোলাম মইনুদ্দিন সাহেব। বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক প্রলয় মজুমদার জানান, এ বছর ওয়ার্ল্ড আর্থ ডের থিম হলো “আওয়ার পাওয়ার, আওয়ার প্ল্যানেট”। অর্থাৎ আমাদের শক্তি আমাদের গ্রহ। তাই আমাদের দায়িত্ব এই গ্রহকে রক্ষা করা। এরজন্য দূষণ প্রতিরোধী ও পরিবেশ রক্ষাকারী বিভিন্ন স্লোগান যেমন ‘প্লাস্টিক বদের ধাড়ি/তার সাথে করব আড়ি’ ; ‘পুকুরগুলি জলে ভরো/বুজিয়ে কেনো বাড়ি করো’ ইত্যাদির সাহায্যে চাঁদমালা বানিয়ে বিভিন্ন সরকারী অফিসে এবং স্থানীয় দোকানে দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো জনসচেতনতা তৈরী করা।
2
রাজ্যে ৭ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫৫০০০ চেনের বাণিজ্যিক বয়লার মুরগী খামারের উদ্বোধন
রাজ্য প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন নিগম লিমিটেড পরিচালিত নদীয়া জেলার হরিণ ঘাটাতে ৭ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫৫০০০ চেনের বাণিজ্যিক বয়লার মুরগী খামারের উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। জানা যায়, হরিণঘাটা ফার্মের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে নটি শেডে ৫৫ হাজার বয়লার মুরগি চেন পালনের মাধ্যমে কর্পোরেশনের নিজস্ব মাংস উৎপাদন কারখানা সরবরাহের পাশাপাশি এই মুরগি সুলভ মূল্যে হরিণঘাটা লাইভ হিসেবে প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন নিগম লিমিটেড বাজারজাত করবে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৪০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে মাংসের ঘাটতি পূরণে অনেকখানি সহায়ক হবে বলে জানা গিয়েছে।
জানা যায় নয়টি শেড আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। যেগুলি পূর্বে হরিণঘাটা ফার্মে ফিড মিক্সিং ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই নয়টি সেটের মোট এলাকা ৫১৬৬৪ বর্গফুট। নয়টি সেটে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার মুরগির বাচ্চা অর্থাৎ চিক রাখা যেতে পারে। একসঙ্গে তিনটি সেটের ঠিক রাখা হবে এবং প্রতি ১০ দিন অন্তর নতুন করে প্লেসমেন্ট করা হবে। মাংস প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টে ভালো মানের বয়লার পাখি সরবরাহ করার জন্য এই ফার্ম ব্যবহার করা হবে।
নতুন এই ফার্মে ভালো বায়ু চলাচলের সুবিধা থাকায় এমোনিয়া ও অন্যান্য দূষক গ্যাসের সমস্যা কমে যাবে। ফলে পাখির স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর প্রভাব কমবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বয়লার পাখির জন্য উপযোগী আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। যা গরম ও শীতকালীন স্ট্রেস হ্রাস করে।
এটি একটি সরকার কর্তৃক মডেল প্রকল্প যা উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে এবং পোল্ট্রি উৎপাদনের সার্বিক উন্নয়নের সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবেন। উৎপাদনশীলতা এবং ভালো মানের মাংস পাওয়া যাবে এখান থেকে। এতে পাখিদের মৃত্যুর হার কমবে। এছাড়াও পাখির কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।


