মানবিক উদ্যোগ, সড়ক দুর্ঘটনায় আটকে পড়া দুই NEET পরীক্ষার্থীকে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন বর্ধমানের ট্রাফিক ওসি


মানবিক উদ্যোগ, সড়ক দুর্ঘটনায় আটকে পড়া দুই NEET পরীক্ষার্থীকে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন বর্ধমানের ট্রাফিক ওসি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পূর্বে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET UG) পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রবিবার নতুন করে পরীক্ষার আয়োজন করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে এদিন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল উদ্বেগ, চাপ এবং প্রত্যাশার মিশেল। সেই আবহেই বর্ধমান শহরে ঘটল এক মানবিকতার নজির, যা পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনও জয় করে নিল।
রবিবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বর্ধমান শহরের ব্যস্ত সদরঘাট ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই যানজটের মধ্যেই আটকে পড়েন দুই NEET পরীক্ষার্থী। জানা যায়, একজন পরীক্ষার্থীর বাড়ি বাঁকুড়া জেলার রসুলপুর এলাকায় এবং অপরজনের বাড়ি জয়রামবাটি গ্রামে। দু’জনই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং যানজটের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।
সূত্রের খবর, একজন পরীক্ষার্থী বাসে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন, অন্যজন ছিলেন একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে। দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে দু’জনেই কার্যত আশা ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। বিষয়টি দ্রুত পৌঁছে যায় বর্ধমান ট্রাফিক পুলিশের ওসি চিন্ময় ব্যানার্জীর কাছে।
খবর পাওয়া মাত্রই চিন্ময় ব্যানার্জী তাঁর টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রথমে দ্রুত যানজট নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সময়ের গুরুত্ব বুঝে তিনি আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন। দুই পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিজের সরকারি মোটরবাইকে করে তাঁদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় একজন পরীক্ষার্থীকে বর্ধমানের শিবকুমার হরিজন স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে এবং অন্যজনকে হরিসভা হিন্দু গার্লস স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপদে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে দু’জন পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দুই পরীক্ষার্থী। তাদের অভিভাবকরাও ট্রাফিক পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, কয়েক মিনিটের দেরি তাঁদের সন্তানদের এক বছরের পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে দিতে পারত। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমান ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এই মানবিক উদ্যোগের খবর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কীভাবে পুলিশ প্রশাসন দায়িত্ব পালন করে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইলো এই ঘটনা।