স্থানীয় মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চালু হলো শ্রীমা সংঘ II সগড়াই গ্রামে শ্রী শ্রী ধর্মরাজের গাজন উপলক্ষ্যে শৌচাগার ও স্নানাগারের উদ্বোধন


1
স্থানীয় মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চালু হলো শ্রীমা সংঘ

বছর দুয়েক প্রায় বন্ধ থাকার পর খুললো জামালপুর ২ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী শ্রীমা সংঘ। দীর্ঘদিন নিজেদের মধ্যে সমস্যাজনিত কারণে বন্ধ ছিল এই সংঘটি। পরবর্তীতে তারা সকলে মিলে বিডিও কে আবেদন করলে তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১২ মার্চ এই সংঘের ঘরের চাবি খুলে দিয়ে পুনরায় সংঘ টিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিডিও পার্থসারথী দে, জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, ডাব্লিউ ডি ও অপর্ণা চ্যাটার্জী, জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু পাল, সংঘের পক্ষ থেকে রাজশ্রী দাস, মধুমিতা মালিক, টুম্পা ঢল সহ অন্যান্যরা। মেহমুদ খান বলেন, দীর্ঘ দুবছর এই স্রীমা সংঘ বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল । এই সংঘের সদস্যরা বিডিও কে আবেদন করেন পুনরায় এটি খোলার জন্য। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় এই সংঘ খুলে দেওয়া হলো। এখন থেকে এই সংঘ কাজ করে যাবে। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এই সংঘের সদস্যরা। ডাব্লিউ ডি ও অপর্ণা দেবী জানান, এখন থেকে এই সংঘ কাজ করবে। যখন নির্বাচনের অর্ডার আসবে তখন নির্বাচন করানো হবে। মূলত মেয়েদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়েই এই সংঘের কাজ পরিচালিত হবে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিঠু পাল বলেন, এই সংঘটি চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা খুবই উৎসাহিত হয়েছেন। আমরা চাই তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হোন। সেই লক্ষ্য নিয়েই এই সংঘের কাজ আবার শুরু করা হলো।

2
সগড়াই গ্রামে শ্রী শ্রী ধর্মরাজের গাজন উপলক্ষ্যে শৌচাগার ও স্নানাগারের উদ্বোধন

পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ ব্লকের সগড়াই গ্রামে শ্রীশ্রী ধর্মরাজের গাজনকে কেন্দ্র করে মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে এখানে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের উদ্যোগে শৌচাগার ও স্নানাগার নির্মাণ করার ব্যবস্থা করা হয়। এই কাজে উদ্যোগ গ্রহণ করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। তিনি এই ধর্মরাজের গাজনকে কেন্দ্র করে উপস্থিত সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অপার্থিব ইসলাম বলেন, এখানে সগড়াই গ্রামে এই গাজন উপলক্ষ্যে বাদুলিয়া সহ চার-পাঁচটি গ্রামের মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন। ১২ মার্চ অর্থাৎ বুধবার এখানে ধর্মরাজের গাজনকে কেন্দ্র করে ধর্মরাজের বিবাহের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এই বিবাহের আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় এলাকায় ধর্মরাজের বিবাহের আগে কোনো হিন্দু পরিবারে বিবাহের আয়োজন করা হয় না। ধর্মরাজের বিবাহের পর হিন্দু পরিবারগুলি স্থানীয় এলাকায় বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। জানা যায়, দোল পূর্ণিমার দিন এখানে রাত গাজন অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন হয় মূল গাজনের অনুষ্ঠান। আর তারপরের দিন ভোগের আয়োজন করা হয়। প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে ওইদিন ভোগ খাওয়ানো হয়।
অপার্থিব বলেন, এই গাজনকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম এখানে হয়। অনেক সন্ন্যাসীও আসেন। তাদের সকলের সুবিধার্থে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এখানে শৌচাগার ও স্নানাগারের ব্যবস্থা করা হলো। স্থানীয় সকল মানুষের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ধর্মীয় উৎসবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সবরকম সহযোগিতা করার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় বলেছেন। মানুষের পাশে থেকে কাজ করার কথা বলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও । এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমরা তাদের সেই বার্তাকে পাথেয় করে মানব কল্যাণে ব্রতী হয়েছি। এই উৎসবে আগত মানুষজনের পাশে থাকাটা আমাদের কর্তব্য। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।