সিধু কানুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন বর্ধমানে | জন্মদিনে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের পাশে শাশ্বত | রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের গুরুত্ব অপরিসীম


1
সিধু কানুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন বর্ধমানে

দেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই নায়ক সিধু কানুর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। একপ্রকার দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যেভাবে সিধু কানু লড়াই করেছিলেন তার জন্য তাদের শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে তাদের সেই লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিল। তাদের প্রতি সম্মান জানানোটাই আমাদের কর্তব্য বলে মনেকরি। হুল দিবস উপলক্ষ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই কথাগুলি বলেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রামাণিক। তিনি বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন সিধু কানু। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সবরকম উদ্যোগ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়েছেন। উজ্জ্বল বলেন, আমাদের এই বীর যোদ্ধাদের কথা মনে রাখতে হবে। আজ আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি ঠিক কথা, কিন্তু এই দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে সিধু কানুর মতো হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামী সেদিন রক্ত দিয়েছিলেন, প্রাণ দিয়েছিলেন। তাদের অবদান ভোলবার নয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম প্রমুখ। তারা প্রত্যেকেই এদিন সিধু কানুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

2
জন্মদিনে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের পাশে শাশ্বত

বর্তমান সময়ে নিজের জন্মদিনটি ঘরে মোমবাতি জ্বেলে, কিংবা কেক কেটে, হ্যাপি বার্থডের সুরে সুরে হাততালি দিয়ে পালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে বর্তমান প্রজন্ম। কিন্তু কালের গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে এবার তার নিজের জন্মদিনটি একটু অন্যভাবে পালন করলো বর্ধমানের শাশ্বত সুন্দর চক্রবর্তী। শহরের নবাবহাট সংলগ্ন তালপুকুরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমার পাঠশালা প্রাঙ্গণে শিশু শিক্ষা ও বয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচীতে যুক্ত শিশু ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জন্মদিনটি ভাগ করে নিল শাশ্বত। এখানে ১০০ জন পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাতে মধ্যাহ্ন ভোজন হিসেবে বিরিয়ানি, স্যালাড, জল ও লস্যি তুলে দেওয়া হলো। নিজের জন্মদিনে মহতী এই কর্মযজ্ঞের সাথী হতে পেরে খুশি শাশ্বত। তার কাছে জন্মদিনের এই অভিজ্ঞতা মনে রাখার মতো। এদিন শাশ্বতর জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমার পাঠশালার পক্ষ থেকে তার হাতে পাঠশালার ক্যালেন্ডার, বৃক্ষচারা, পেন, মিষ্টি ইত্যাদি তুলে দেওয়া হয়। তার প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত সকলেই। আমার পাঠশালার সম্পাদক সন্দীপ পাঠক বলেন, শাশ্বতর এই উদ্যোগ একটা দৃষ্টান্ত। আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। তার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সামনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক। শাশ্বতর মতো মানুষদের হাত ধরে পৃথিবীজুড়ে কলুষতার ঝড় থামুক। সর্বত্র শান্তি বিরাজ করূক।

3
রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের গুরুত্ব অপরিসীম

গরীব দুঃস্থ অসহায় মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয় বর্ধমান পৌরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপুকুর এলাকায়। মিঠাপুকুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে এবং অ্যাথলেটিক ক্লাব ও নিউ সন্ধ্যা ফার্মেসির সহযোগিতায় এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়। বিনামূল্যে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করার ফলে অসংখ্য সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। এই শিবিরে মোট ২০০ জন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। এই স্বাস্থ্য শিবিরে কার্ডিওলজি, মেডিসিন, ডায়েটিশিয়ান, ব্লাড প্রেসার চেকিং সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের চিকিৎসকরা পরিষেবা প্রদান করেন। মিঠাপুকুর দুর্গাপুজো সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যরা জানান, স্বাস্থ্য শিবিরে যদি কোনো জটিল রোগের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এবং সন্ধ্যা ফার্মেসির সহযোগিতায় স্থানীয় কাউন্সিলর সুশান্ত প্রামাণিকের উদ্যোগ সেই রোগীকে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হবে। পুজো কমিটির সদস্যরা আরও জানান, আগামী দিনে সমাজসেবামূলক কাজ হিসেবে রক্তদান শিবির এবং চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই বিষয়ে ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা বর্ধমান পৌরসভার এমসিআইসি সুশান্ত প্রামাণিক জানান, এই ধরনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির অনেকদিন এই এলাকায় হয়নি। ফলে এই স্বাস্থ্য শিবিরে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত হন। এই এলাকায় বহু অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। তারা আজ এই স্বাস্থ্য শিবিরে এসে উপকৃত হলেন।