ভোটের দিনে এক অন্যরকম ভোটের স্বাদ পাওয়া গেল, বলছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ, তবে শাসক বিরোধীর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনীতি
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন একটু অন্য রকমের নির্বাচন বলে মনে করছেন বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা। যুবক থেকে বৃদ্ধ কথা বলে জানা গেল তারা অনেকদিন পর এই ধরনের একটি ভোট দেখতে পেলেন, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছেন বলে দাবি করলেন তারা। তাদের কথায়, ভোট দেওয়ার জন্য কোনো চাপ ছিল না। কোনো রাজনৈতিক দল তাদের এসে কোনো কথা বলতে পারেনি। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হয়েছে প্রতিটি এলাকায়। এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তারা শান্তিপূর্ণ ভোট পর্ব পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন বলেই মনে করছেন অনেকে।
বেশকিছু বুথে দেখা গেছে ভোটাররা লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উপস্থিত রয়েছেন ভোটকেন্দ্রে। হুইল চেয়ারে আগত ভোটারকে সহযোগিতা করছেন তারা। প্রবীণ নাগরিকদের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ঢোকা ও বেরোনোর পথে সহযোগিতা করছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। (পজ্)
যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করতে দেখা গেল বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী খোকন দাসকে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভয়ে জড়সড়ো হয়ে রয়েছেন সকলে। বিজেপির নেতৃত্ব ও কর্মীরা যা বলছেন তাদের কথা মতোই চলছে প্রশাসন। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো ফল পাইনি। তবে মানুষ এখানে ভোট দিয়েছেন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ভোট দিয়েছেন সকলে।
বিজেপি প্রার্থী নানান অভিযোগ করছেন। আর তার কথামতো চলছে কমিশন। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।
যদিও বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। কিছু কিছু জায়গায় রাজ্যের শাসক দলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা, গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তা প্রতিহত করেছেন। মানুষ অনেকদিন পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এবার ভোট দিতে পেরেছেন।
এদিকে ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ার নিয়ে রাস্তায় বসে থাকতে দেখে, তাকে সেখান থেকে তুলে দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশকর্মীরা। তার চেয়ার ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়।


