বেতাজ বাদশা’র পতন ! তোলাবাজি-শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার রায়নায় তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল

বেতাজ বাদশা’র পতন ! তোলাবাজি-শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার রায়নায় তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল

তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি ও মারধরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের রায়না-১ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল রায়না থানার পুলিশ। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হয়। শনিবার গভীর রাতে যাকতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন ধৃতকে তোলা হয় আদালতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বামদেব মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে যাকতা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় বামদেব মণ্ডলের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় রায়না-সহ গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন,
“আগে দেখতে হবে বামদেব মণ্ডল কীভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিল। বেতাজ বাদশা হয়েছে বলেই তো আজ গ্রেপ্তার হয়েছে। সে কী কী কুকর্ম করেছে, রায়নার মানুষ সবাই জানেন। দক্ষিণ দামোদর অঞ্চল-সহ গোটা রায়না-১ ব্লকের মানুষ জানেন, তাদের উপর কীভাবে অত্যাচার চালানো হতো, কীভাবে হুমকি দেওয়া হতো। যত ধরনের কুকর্ম ছিল, সবকিছুর সঙ্গেই বামদেব মণ্ডলের নাম জড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ।