ফলাফল প্রকাশের পরেই কি মারধরের উদ্যোগ ? তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীদের নাম লেখা লাঠি ও সাদা থান ! এলাকায় চাঞ্চল্য
এবার ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই কি এলাকায় বড়সড় রক্তগঙ্গার ছক কষেছিল রাজ্যে আগের শাসকদল ? বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে শুক্রবার বিপুল পরিমাণ মোটা লাঠি এবং সাদা থান কাপড় উদ্ধার হতেই এই প্রশ্ন ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। উদ্ধার হওয়া লাঠিগুলোর গায়ে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে এলাকার বিজেপি কর্মীদের নাম ! ঘটনার খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছোয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই তৃণমূল কার্যালয়টিতে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সকলের। উদ্ধার হয় সার দিয়ে রাখা মোটা লাঠি এবং মৃতদেহের সৎকার কার্যে ব্যবহৃত সাদা থান কাপড়। যে সমস্ত বিজেপি কর্মীদের নাম ওই লাঠির গায়ে লেখা ছিল, তারা আতঙ্কে ও ক্ষোভে সরব হয়েছেন। তাদের দাবি— ভোটের ফলাফলের পর আমাদের খুন করার উদ্দেশ্যে এই চক্রান্ত করেছিল তৃণমূলের হার্মাদরা। আজ যদি ওরা ক্ষমতায় আসত, তবে আমাদের কেউ আস্ত ফিরত না। আমাদের নামে নামে লাঠি তৈরি করে, মারার পর পোড়ানোর জন্য সাদা কাপড় কিনে রাখা হয়েছিল। এলাকাবাসী সরাসরি আঙুল তোলেন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা আকাশ সিং এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ ব্যানার্জীর দিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকাশ সিং বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘ডানহাত’ বলে পরিচিত। বাসিন্দাদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরও এই আকাশ সিংয়ের নেতৃত্বেই এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। বহু মানুষকে ঘরছাড়া করা, বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ তাকে এতদিন গ্রেপ্তার করেনি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এই ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ ব্যানার্জীর মদতেই এই সমস্ত সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নাম লেখা লাঠি এবং সাদা থান নকাপড়গুলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গেছে। তবে ওই পার্টি অফিসের ভেতরে থাকা একটি আলমারি এবং কয়েকটি সন্দেহজনক বাক্স এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। সেগুলি খুললে আরও কী বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসবে, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। যাদের অসৎ উদ্দেশ্যে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হতো এবং মানুষের প্রাণ নেওয়ার এই ছক ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যাতে পুলিশ প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেই দাবি জানিয়েছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আতঙ্কিত বাসিন্দারা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ বলে জানা গেছে।



