শুরু হলো সম্প্রীতির মা বনবিবি মেলা II শহর থেকে গ্রাম সার্বিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

1
শুরু হলো সম্প্রীতির মা বনবিবি মেলা

জামালপুরে বনবিবিতলায় শুরু হয়েছে সম্প্রীতির মা বনবিবি মেলা। খাদিম সাইফুদ্দিন ও তার পরিবার এই মা বনবিবির সেবায়েত। কথিত আছে আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে দামোদর নদী দিয়ে কোনো নৌকা পেরুলে মাঝ নদীতে আটকে যেত। তখন মা বনবিবির নাম নিলে আবার নৌকা চলতে শুরু করতো। পরে স্থানীয় মীর বাবর আলীকে মা বনবিবি স্বপ্নাদেশ দেন তাঁকে যেন নদী থেকে তুলে পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। তখন তিনি নদী থেকে মায়ের পাথরের মূর্তি তুলে আনেন। সেই থেকেই হিন্দু ও মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মা বনবিবির মেলায় অংশগ্রহণ করেন। এই বছর এই মেলা ৭৫ বছরে পড়লো। এই মেলার উদ্বোধন করেন জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান। ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, জামালপুর ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাহাবুদ্দিন মন্ডল, আলিম শেখ, বনবিবি তলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার রায়,মীর সাইফুদ্দিন সহ অন্যান্যরা। মেহেমুদ খান তার বক্তব্যে বলেন, এটি একটি সম্প্রীতির মেলা। যেখানে হিন্দু ও মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। আজকে গোটা দেশে যে ধর্মীয় হানাহানি চলছে, সে দিক থেকেই মেলা একটি দৃষ্টান্ত। এছাড়াও এই মেলার একটি ইতিহাস রয়েছে। তিনি মেলা কমিটি এবং সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, মেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে ওই সময় মেলায় মাইক বাজানো বা জনসমাগম বন্ধ রাখা হবে বলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

2
শহর থেকে গ্রাম সার্বিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

সারা রাজ্যজুড়ে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র সার্বিক শিক্ষার প্রসারে ২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে। শিক্ষাকে জনমুখী করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধারাবাহিকভাবে তাঁর প্রচেষ্টা জারি রেখেছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি একাধিক জনপ্রিয় প্রকল্পকে কার্যকর করার মধ্যে দিয়ে শুধু এই বাংলা বা ভারত নয়, সারা বিশ্বে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প বিশ্ব দুয়ারে সমাদৃত হয়েছে। এটা আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাই শিক্ষার আলোকে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও আলোকিত করতে হবে। তবেই সার্থক হবে সার্বিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্য।পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের উখরিদ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সরঙ্গা হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কথাগুলি বললেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোভাবে উন্নয়নের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দিকে সবসময় নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একদিকে যেমন নারী শিক্ষার প্রসারে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী ইত্যাদি প্রকল্পকে রাজ্যের প্রান্ত-প্রত্যান্তরে পৌঁছে দিয়েছেন, তেমনই আবার ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম। যা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলছে আজকের ছেলেমেয়েদের। অপার্থিব বলেন, গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে উখরিদ অঞ্চলের সরঙ্গা হাইস্কুলের ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জ্বল। ১১৮ বছরের পুরনো এই বিদ্যালয় শুধু খন্ডঘোষ ব্লক নয়, সারা জেলার কাছে গর্বের। এই গর্বের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা শিক্ষক অনাবিল ইসলাম। ছিলেন আর এক কর্মাধ্যক্ষ বিদ্যুৎকান্ত মল্লিক। উপস্থিত ছিলেন উখরিদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপূর্ব হাজরা।