1
যাত্রায় অংশ নিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ
পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের গুইর গ্রামে চলছে গুইর গ্রামীণ ও কৃষি মেলা। এই মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠিত হয় যাত্রাপালা। শ্রীচৈতন্য অপেরার “ঘুম কেড়েছে ফুলকুমারী” যাত্রাপালাটি মঞ্চস্থ হয় এখানে। এই যাত্রাপালায় অংশ নেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে স্বপন দেবনাথকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। স্বপন দেবনাথ বলেন, যাত্রা শিল্প মাঝখানে হারিয়ে গিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছেন। গ্রামীণ এই লোকসংস্কৃতিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই সম্বর্ধনা জ্ঞাপন পর্বে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, খন্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনাবিল ইসলাম, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নীলুফা বেগম প্রমুখ। অপার্থিব ইসলাম বলেন, যাত্রা শিল্পের প্রসারে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিল্পকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে এই শিল্পকে গ্রামবাংলায় বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ অত্যন্ত উজ্জ্বল ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি নিজেই যাত্রায় অংশ নিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা অভিনেত্রীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
2
প্রতিষ্ঠা দিবসে বিদ্যালয়কে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ
জেলার আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত চন্ডীপুরডাঙ্গা আদিবাসী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনটা পালন করা হলো একটু অন্যরকম ভাবনায়। সরকারি নিয়মমতো বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে সাধারণত ছুটি থাকে। কিন্তু এখানে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিত রায় এবং বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক সুপ্রিয় রায় ও প্রদীপ ঘোষের আন্তরিক ইচ্ছায় এই দিনটি ছুটির দিন হিসেবে পালন না করে, বিদ্যালয়ের জন্মদিন হিসেবে পালন করা হলো। জানা যায়, এই বিদ্যালয় ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এবছর ছিল বিদ্যালয়ের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রধান শিক্ষক সুমিত রায় জানান, বিদ্যালয়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে অঞ্চলের ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এদিন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সকলেই উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন গুসকরা ১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপেন্দ্র রানা। ছিলেন স্থানীয় এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পানো মাড্ডি। এই বিদ্যালয়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শ্রেণীকক্ষগুলি সাজিয়ে তোলে ছাত্র-ছাত্রীরা।
এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন গুসকরা ১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপেন্দ্র রানা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনটি বিদ্যালয়ের জন্মদিন হিসেবে পালন করা এবং কেক কাটা, এই সবটাই একটা অভিনব ভাবনা। যা বাস্তবায়িত হয়েছে এখানে। এর মধ্যে দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা আশাকরি এই বিদ্যালয়কে অনেকটাই আপন করে নিতে পেরেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই অভিনব ভাবনার প্রশংসা করেছেন আউসগ্রাম ২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক চিন্ময় দাস। তিনি এদিন উপস্থিত থাকতে না পারলেও বিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার পথ আরও প্রশস্ত হোক, তার এই শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষককে। প্রধান শিক্ষক বলেন, এই দিনটিতে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে চিকেন বিরিয়ানি, স্যালাড, পায়েস, রসগোল্লা ইত্যাদি তুলে দিয়েছি। এই বিদ্যালয়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সামন্তপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব কুমার চট্টোপাধ্যায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে একটি ঘড়ি তুলে দেন। এই ঘড়ি হাতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি এখানে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীরা।


