বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবরকম প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে | “দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে বৃত্তিপরীক্ষা” | বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সভা


1
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবরকম প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে একটা মারাত্মক ব্যাধি। এই ব্যাধি দূর করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানান প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, নারীদের জীবনকে সুরক্ষিত রাখার জন্য রাজা রামমোহন রায় থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নানাভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাল্যবিবাহ রোধের বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন। তারজন্য তিনি রুপশ্রী প্রকল্পকে কার্যকর করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে মেয়েদের বিবাহ হলে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়াও কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার আঙিনায় ধরে রাখা ও তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন। জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য দপ্তর, আইসিডিএস কর্মী, আশা কর্মী প্রত্যেকেই উদ্যোগী হয়েছেন। অপার্থিব ইসলাম বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধিরাও যখন যেভাবে সম্ভব সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করছি। বাল্যবিবাহের কুফলগুলি তুলে ধরা হচ্ছে। এইসব কিছু প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে বাল্যবিবাহ অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। তবু যেটুকু সমস্যা রয়েছে সেটাও যাতে না হয়, তারজন্য প্রশাসন ও আমরা জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যেকেই সচেতন রয়েছি।

2
“দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে বৃত্তিপরীক্ষা”

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশে যেসব সংস্থা ছাত্রছাত্রীদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম বর্ধমান শহরের বাদামতলা অঞ্চলের মোশন। মোশন- এর পক্ষ থেকে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সার্বিক বৃত্তিপরীক্ষার আয়োজন করা হয়। যেখানে অংশ নেয় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৩১২ জন ছাত্রছাত্রী। মোশনের পক্ষে সঞ্জয় লাহা জানান, এই পরীক্ষার ফল নভেম্বরে আমরা প্রকাশ করবো। সবাই ই-সার্টিফিকেট পাবে। ভাল ফল করা ছাত্রছাত্রীরা পাবে মেমেন্টো, মোশনের নানা কোর্সে স্কলারশিপ, নগদ ছাড় তথা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোচিংয়ের সুবিধে।
এ প্রসঙ্গে দুই শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডল ও অনুপ দত্ত জানান, আজকের পরীক্ষা শ্রেণীভিত্তিক এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর। প্রশ্ন এমসিকিউ প্যাটার্নের। আশাকরি, আমাদের বেশকিছু পড়ুয়া মোশনে প্রশিক্ষণের জন্য সুযোগ পাবে।
জাতীয় শিক্ষক তথা প্রধানশিক্ষক ড সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অব্যাহত সরকারি প্রয়াসের সমান্তরাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির অক্লান্ত কর্মকাণ্ড সাধুবাদের যোগ্য। মোশন জয়েন্ট, আইআইটি, নিট কোচিং দিয়ে থাকে। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানমুখী মানসিকতা গঠনের লক্ষ্যে আজকের এই বৃত্তিপরীক্ষা। আশা করছি তা তাদের যথেষ্টই কাজে লাগবে।

3
বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সভা

বাংলার বাইরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে তার প্রতিবাদেই জামালপুরের পারাতল ১ অঞ্চলের হিরণ্যগ্রাম বারোয়ারীতলায় একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান। বক্তব্য রাখেন শিব শঙ্কর রক্ষিত, ব্লক এস সি সেলের সভাপতি উত্তম হাজারী, বটু নন্দী সহ অন্যান্যরা। মেহেমুদ খান তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা দুর্গার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, গ্রামের এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কথা কেউ যদি ভেবে থাকেন তাহলে তিনি হলেন আমাদের সকলের মা, মা মাটি মানুষের জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকে গরীব খেটে খাওয়া মানুষেরা চিকিৎসার সুবিধা থেকে, বিনামূল্যে রেশন, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা কী পাচ্ছে না গ্রামের মানুষ। তিনি আরও বলেন, একটি গ্রামের এই প্রতিবাদ সভায় প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিচ্ছে গ্রামের মানুষের সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আছে। তাদের জন্যই মুখ্যমন্ত্রী যাবতীয় কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন।