1
প্রখ্যাত সাধক সাধন দাস বৈরাগ্যর প্রয়াণ দিবসে উপস্থিত স্বপন দেবনাথ
পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের শশঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমরুল গ্রামে বিশ্ব মানব প্রেম পঞ্চবটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রখ্যাত সাধক সাধন দাস বৈরাগ্য। তেইশ জুলাই ছিল তার প্রয়াণ দিবস। এই উপলক্ষ্যে এদিন এই আশ্রম প্রাঙ্গণে সাধন দাস বৈরাগ্যকে স্মরণ করেন তার ভক্তরা। তারই লেখা গানের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন দেবনাথ। এই আশ্রমে থাকা বিদেশি ভক্তদের সঙ্গে মিলিত হন স্বপনবাবু। তিনি তাদের সঙ্গে সাধন দাস বৈরাগ্যর জীবনচর্চা নিয়ে ভাব বিনিময় করেন। স্বপনবাবু জানান, এই মহান সাধক বহু গান লিখেছেন। মূলত দেহতত্ত্বের উপরেই তিনি গান গাইতেন। একইসঙ্গে সব ধর্মের মিলনের গানও তিনি গাইতেন। জাতিভেদ ও ধর্মীয় ভেদাভেদকে অতিক্রম করে তিনি মানব প্রেমের কথা বলেছেন। তাই তিনি মনে করতেন সমগ্র পৃথিবীটাই তার একটা নিজের গ্রাম। আর এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষই তার একান্ত আপনজন। এদিন স্বপন দেবনাথের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম ও কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়। অপার্থিব ইসলাম বলেন, সাধক সাধন দাস বৈরাগ্য একজন বাউল শিল্পী ছিলেন। ৫ হাজারের বেশি তিনি গান লিখে গেছেন। যা তার ভক্তদের আকৃষ্ট করেছে। বহু বিদেশী ভক্ত রয়েছেন তার। জাপান থেকে কয়েকজন ভক্ত এখানে এসে থেকে গেছেন। ২৫-৩০ বছর ধরে তারা রয়েছে এখানে। তারাও এই মানবপ্রেমের তত্ত্বকে বুকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন। এখানে এই আশ্রম প্রাঙ্গণ সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলনস্থল হয়ে উঠেছে।
2
বর্ধমানে ১৮ তম ভারত সংস্কৃতি উৎসব শুরু ১৮ ডিসেম্বর
১৮ তম বর্ষ ভারত সংস্কৃতি উৎসব এবার শুরু হচ্ছে বর্ধমান শহরে ১৮ ডিসেম্বর। এখানে এই উৎসব হবে বাইশে ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ে রিষড়াতে উৎসব হবে ২৫ ডিসেম্বর। আর তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ে কলকাতায় এই উৎসব হবে ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর। এই উপলক্ষ্যে বর্ধমান পান্থশালায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সভায় ভারত সংস্কৃতি উৎসব কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ পোদ্দার জানান, আমরা এবার ১৮ তম বর্ষে পা দিয়েছি। হিন্দুস্তান আর্ট অ্যান্ড মিউজিক সোসাইটি এবং অন্তরা সংগীত বিদ্যালয়ের আয়োজনে ২০০৯ সাল থেকে এই উৎসব প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বছর এই উৎসবে প্রতিযোগী ছিলেন ১০৫ জন। ২০২৪ সালে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৫৭৮ জন। তিনি বলেন, আমাদের এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দশ হাজার প্রতিযোগীকে নিয়ে এই উৎসব পরিচালনা করা। এই উৎসবে দশটি দেশের শিল্পীরা উপস্থিত থাকবেন। চব্বিশটি রাজ্য থেকে শিল্পী ও প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করবেন। এবারের এই উৎসবের বাজেট হল প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।
এই উৎসব কমিটির সভাপতি তথা বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, মানুষের জীবনে সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি জীবনের একটি অঙ্গ। সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে মানুষের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ভারত সংস্কৃতি উৎসবও বর্ধমানবাসীর জীবনে প্রতি বছরই নতুনের স্বাদ এনে দেয়। আমরা প্রতি বছর প্রতীক্ষায় থাকি এই উৎসবের দিনগুলিতে অংশগ্রহণ করার জন্য।
এই উৎসব কমিটির সহ-সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী অরূপ দাস এবারের উৎসব মঞ্চের নাম ভারত সংস্কৃতি উৎসবের প্রাণপুরুষ রাধাকৃষ্ণ পোদ্দারের নামে নামাঙ্কিত করার প্রস্তাব রাখেন। সাংবাদিক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এই উৎসব কমিটির কনভেনার দেবেশ ঠাকুর, কোঅর্ডিনেটর শ্যামল দাস, পৌরসভার কাউন্সিলর সনৎ বক্সী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজলেরা।


