নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে || পৌর এলাকায় পাড়ায় সমাধান কর্মসূচীর প্রথম কাজ শুরু ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে


1
নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর ব্লকের কুসুমগ্রামে চিলড্রেন্স অ্যাকাডেমির উদ্যোগে তাদের বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শ্যামাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠানে এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। শ্যামাদাসবাবু এদিন উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন পরিবারে বাবা-মাদের কাছ থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছি। তারা সকলেই বলতেন তোমাকে আগে মানুষ হতে হবে। আবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আমাদের প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই মানুষ হিসেবে ছেলেমেয়েদের গড়ে তোলার যে ভাবনা তার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন অভিভাবকরা চাইছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে ভালো চাকরি করুক। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, শিক্ষক, ব্যারিস্টার হোক। নাহলে ভালো সরকারি চাকরি পাক। কিন্তু মানুষ হওয়ার কথা তাদের বলা হচ্ছে না। কিন্তু তাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
শ্যামাদাসবাবু আরও বলেন, আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল অনেক আছেন। কিন্তু এখান থেকে খুব কম ছাত্র-ছাত্রী আইএএস – আইপিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আমাদের রাজ্য থেকে তাই বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে আগামী দিনে আইএএস – আইপিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তাদের দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার কাজে অংশ নিতে হবে। তিনি অভিভাবকদের বলেন, কোনো ভাবেই সন্তানদের মানি মেকিং মেশিন করা যাবে না। তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজটা শিক্ষক-শিক্ষিকারা করতে পারবেন। কারণ তারাই হলেন মানুষ করার কারিগর।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেভি অফিসার ডঃ মহম্মদ আলী, শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ গুলজার হোসেন, নির্মল কুমার রায়, আলেয়া খাতুন, অধ্যাপক সামরুল হক প্রমুখ। এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। নানান সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা।

2
পৌর এলাকায় পাড়ায় সমাধান কর্মসূচীর প্রথম কাজ শুরু ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচী ইতিপূর্বে কার্যকর হয়েছে। এই কর্মসূচীর সাথী হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষরা তাদের এলাকার উন্নয়নের বিষয়গুলি প্রস্তাব আকারে প্রশাসনিক স্তরে জানিয়েছিলেন। এবার সেইসব প্রস্তাব গৃহীত হয়ে কাজ শুরু হলো বর্ধমান শহরে। এ প্রসঙ্গে বর্ধমান পৌরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা এমসিআইসি সুশান্ত প্রামাণিক জানান, এই ওয়ার্ডে পাড়ায় সমাধান কর্মসূচীর প্রথম কাজের সূচনা হলো। সুশান্ত প্রামাণিকের হাত ধরে এই কর্মসূচীর সূচনা হয় বলে জানা যায়। ওয়ার্ডে বসবাসকারী বিভিন্ন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, শিক্ষক সহ বিভিন্ন চাকুরিজীবী মানুষের প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়ে পাড়ায় সমাধান কর্মসূচীর কাজ শুরু হলো। উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য কর্মীরা।
জানা যায়, এই এলাকার বাসিন্দারা পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে তাদের এলাকার চাহিদার বিষয়গুলি যথাযথভাবে উল্লেখ করেছিলেন। সেই মতো প্রশাসনিক স্তরে তাদের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে এই উন্নয়নের কাজকে সম্পন্ন করা হবে। সমস্ত কাজই জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তেমনই বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুশান্ত বলেন, আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি যেকটি প্রকল্প ঘোষণা করেছেন, তার সবগুলিকেই কার্যকর করেছেন। এক্ষেত্রে পাড়ায় সমাধান কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করার কাজ ১৬ ডিসেম্বর বর্ধমান শহরে শুরু হলো। ২৯ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে এই কর্মসূচীর সূচনা হলো।