1
বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আহ্বান
সাচরা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হলো মহাসমারোহে। এই উপলক্ষ্যে ২১ ও ২২ জানুয়ারী দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিন উপস্থিত হন বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, বিডিও পার্থসারথী দে, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, আঝাপুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অশোক ঘোষ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও সাংবাদিক অতনু হাজরা সহ অন্যান্যরা। বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের জন্য জমিদাতাদের ও বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কমিটির সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি রাজ্য সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন। সকল ছাত্রছাত্রীদের নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেন। তিনি তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে স্কুলকে ৭ লক্ষ টাকা অনুদান দেবার কথাও ঘোষণা করেন।
বিডিও তাঁর বক্তব্যে আঝাপুর অঞ্চলে বেশী পরিমাণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাব ও পঞ্চায়েতকে এরজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেন। (পজ্)
মেহেমুদ খান বাল্যবিবাহ নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, রাজ্য সরকারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, ওয়েসিস, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী সহ নানান স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছেন ছাত্রীদের জন্য। তাই কোনোমতেই ১৮ বছরের নীচে কন্যাদের বিবাহ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই বিষয়টি প্রত্যেক অভিভাবককে মাথায় রাখতে হবে ও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
ভূতনাথবাবু বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা ও শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী সকলকে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান এই অনুষ্ঠান করার জন্য। তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের। তাদের হাত ধরেই বেঁচে থাকবে এই বিদ্যালয়।
2
পূর্বস্থলী ১ ব্লকে গড়ে উঠছে তিনটি প্রকল্প, জানালেন মন্ত্রী
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার অন্তর্গত পূর্বস্থলী ১ ব্লকে তিনটি প্রান্তে তিনটি শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ। এই এলাকাটি রাজ্যের মন্ত্রী তথা পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন দেবনাথের বিধানসভা এলাকায় অবস্থিত। এ প্রসঙ্গে স্বপন দেবনাথ জানান, তিনটি শিল্পকেন্দ্র এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলি হলো খড় থেকে বিড়ে তৈরী, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কচুরিপানা থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নির্মাণ। স্বপনবাবু জানান, ইতিমধ্যেই স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর অধীন মহিলা হস্তশিল্পীদের দ্বারা নির্মিত তিনটি শিল্প কেন্দ্রের কাজের যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটেছে। এবার উৎপাদন ও বিপণন বিষয়টিকে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কচুরিপানা থেকে হস্তশিল্প সামগ্রী উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে ৪৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। আর্থিকভাবে মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ফল ও উদ্ভিজ্জ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র “পূর্বা” গড়ে তোলা হচ্ছে। এরজন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া ধানের খড় থেকে বিড়ে উৎপাদনের কেন্দ্র এখানে তৈরী করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৮ লক্ষ টাকা। স্বপনবাবু বলেন, এরজন্য আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি গ্রামীণ শিল্পের বিকাশে যেভাবে অর্থ বরাদ্দ করেছেন তা এখানকার মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। আমি আশাবাদী এই তিনটি প্রকল্পই এখানে সকল ভাবে রূপায়িত হবে।


