জামালপুরে তারামা মন্দিরে সম্প্রীতির ভাইফোঁটা
অনন্য এক সম্প্রীতির নজির গড়ে মহিন্দরে ভাইফোঁটার আয়োজন করলো তারামা ট্রাস্ট। ভাইফোঁটার পূণ্যতিথীতে বোনেরা ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় কপালে ফোঁটা দেয়। এটাই আমাদের ভারতের রীতিনীতি ও ঐতিহ্য। সেই পরম্পরাকে বজায় রেখেই জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মহিন্দরের তারামা মন্দিরে আয়োজন করা হলো ভাইফোঁটার। এলাকার প্রায় শ”তিনেক বাচ্চা ছেলেমেয়ে অংশ নিয়েছিল এই অনুষ্ঠানে। আর এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন জামালপুরের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান। তিনি নিজেও তারামা ট্রাস্টের সদস্য। তার সঙ্গে ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ শিপ্রা ওঝা ও ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যা। আশ্রমের গেটের মুখে মেহেমুদ খানকে বরণডালায় প্রদীপ জ্বালিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাকে আশ্রমের ভিতরে নিয়ে আসা হয়। মন্দিরে গিয়ে তিনি মাতৃদর্শন করেন। সেখানে আয়োজিত ভাইফোঁটায় তিনি কচিকাঁচাদের সঙ্গে মিশে যান। তার মঙ্গল কামনায় তাকে ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ নেন শিপ্রা ওঝা সহ অন্যান্যরা। একই সঙ্গে ফোঁটা নিয়ে পাশাপাশি বসে খাবার খাচ্ছেন মেহেমুদ খান ও এই মন্দিরের পুরোহিত। এ এক বিরল দৃশ্য। ৩০০ জন বাচ্চা প্রত্যেকের হাতেই নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয় তারামা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। ছোট ছোট বাচ্চারা মেহেমুদ খানের কপালে ফোঁটা দেয়। আর তিনি প্রা ভরে আশীর্বাদ করেন তাদের। মেহেমুদ খান বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে বাপিন দা এই অনুষ্ঠান করছেন এবং তিনি প্রতিবছরই এই অনুষ্ঠানে আসেন। এখানে এলে তাঁর এক অন্য অনুভূতি হয়।
এরই পাশাপাশি এদিন মেহেমুদ খানের ব্লক পার্টি অফিসেও ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান করেন ব্লকের ১৩ টি অঞ্চল থেকে আসা দলের মহিলা কর্মীরা। এখানেও এক সম্প্রীতির আবহ লক্ষ্য করা যায়। এখানেও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আসেন মেহেমুদ খানকে ভাইফোঁটা দিতে। পার্টি অফিসে তার মঙ্গল কামনায় কপালে প্রথম ফোঁটা দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক। ছিলেন বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ শিপ্রা ওঝা। আর ছিলেন ব্লকের সমস্ত স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর নেত্রী ঝর্না বেগম শেখ। এছাড়াও পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, সাধারণ কর্মী মিলে প্রায় একশোজন উপস্থিত ছিলেন। এক মুসলমান ভাইয়ের কপালে এক হিন্দু বোন ফোঁটা দিচ্ছেন, সত্যি সম্প্রীতির এক চরম নিদর্শন। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাকে উপহারে ভরিয়ে দেন তার বোনেরা। তিনিও বোনেদের হাতে উপহার হিসাবে তুলে দেন একটি করে শাড়ি। মেহেমুদ খান বলেন, তিনি আপ্লুত। এই ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান তিনি সরাজীবন মনে রাখবেন।


