ভাঙন পরিদর্শনে মন্ত্রী ও জেলাশাসক |এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই -এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী|প্লাস্টিক বর্জন সংক্রান্ত সচেতনতা শিবির


1
ভাঙন পরিদর্শনে মন্ত্রী ও জেলাশাসক

পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী এলাকায় বয়ে যাওয়া গঙ্গা নদীর ধারে অবস্থিত গ্রামগুলিতে প্রায়শই ভাঙন দেখা যায়। এই নদীর তীরবর্তী বেশকিছু গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়ে। ফলে বহু মানুষের জমি বাড়ি গঙ্গা বক্ষে তলিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ভাঙন প্রতিরোধের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের কিশোরীগঞ্জ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ায় সেখানে পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ, সেচ দপ্তরের ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব রায়, কালনার মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। স্থানীয় গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন এই নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, জেলাশাসক সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরপর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলাশাসক বলেন, এখানে ভাঙন প্রতিরোধে ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করে প্রায় ৭০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ হবে। ইতিমধ্যেই টেন্ডার-এর কাজ শুরু করা হয়েছে। ভেটিভার ঘাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের যাতে সুবিধা হয় তারা সেই দিকটিতে প্রাধান্য দিতে চান বলে জানান জেলাশাসক।

2
এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই -এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী

ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে একদিকে যেমন সবার জন্য শিক্ষা ও কাজ সুনিশ্চিত করার লড়াই চলছে, তেমনই আবার পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করে পরিবেশ সচেতনতায় এগিয়ে এসেছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে ৫ ও ৬ জুন পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইউনিটে ইউনিটে ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করে চারাগাছ রোপণ কর্মসূচী পালন করা হয় এসএফআই-এর উদ্যোগে। এর পাশাপাশি এসএফআই বর্ধমান শহর লোকাল কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলনকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার ছাত্র শহীদদের উৎসর্গ করে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চারা রোপণ করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের কাছে গিয়ে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে পরিবেশ সচেতনতামূলক লিফলেট প্রদান করা হয়। ৫ জুন এসএফআই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বনসৃজন ও পরিবেশ বান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কর্মসচিবের হাতে চারা গাছ তুলে দেওয়া হয় ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব উষসী রায় চৌধুরী ও অনির্বাণ রায় চৌধুরী জানান, মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সহ সমস্ত এলাকার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। যা আগামী দিনে আমাদের তো বটেই তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। তাই আমরা এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের সাথী হয়েছি সকলে।

3
প্লাস্টিক বর্জন সংক্রান্ত সচেতনতা শিবির

বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে প্লাস্টিক বর্জনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অনেকেরই সচেতনতার অভাব রয়েছে। আর তাই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমার পাঠশালার পক্ষ থেকে এক সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় নবাবহাট সংলগ্ন গোদা তালপুকুর এলাকায় আয়োজিত এই সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন কামারুজ্জামান চৌধুরী, স্বপন ঘোষ, রাজকুমার লাহা, সুবোধ মালিক প্রমুখ। ছিলেন আমার পাঠশালার সম্পাদক সন্দীপ পাঠক। এদিনের অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে আমার পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে এদিন এখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীরও আয়োজন করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সন্দীপ পাঠক জানান, প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে খুব ছোট থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটা ধারণা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাহলে তারা বড় হয়ে এই প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকবে। পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেবে। সন্দীপ পাঠক বলেন, আমরা আমার পাঠশালা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণও করেছি। উপস্থিত বিশিষ্টদের পাশাপাশি এখানে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীরাও বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ করে। একইসঙ্গে তারা এখানে প্লাস্টিকসহ নানান আবর্জনা পরিষ্কারের কাজেও হাত লাগায়। তিনি জানান, এখানে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েরাই সাধারণত লেখাপড়া করে। আমরা তাদের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষার দিকটি গড়ে তুলতে চেয়েছি। সেইমতো বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক বর্জন সংক্রান্ত সচেতনতা শিবিরের আয়োজন সেই পদক্ষেপেরই অঙ্গ।