জাতীয় স্তরের অঙ্কন কর্মশালা বর্ধমানে┃মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ, ফাইল, জলের বোতল তুলে দিল তৃণমূল যুব কংগ্রেস┃পরীক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে সাহায্য, ট্রাফিক কন্ট্রোলে কাউন্সিলর┃মন্দির নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

1
জাতীয় স্তরের অঙ্কন কর্মশালা বর্ধমানে

বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির প্রাঙ্গণে স্মরণিকা আর্ট ভাইব -এর উদ্যোগে এক জাতীয় স্তরের অঙ্কন কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালায় এই রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি বিদেশ থেকেও শিল্পীরা এসেছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে আয়োজক সংস্থার সম্পাদক শিল্পী জুঁই গুঁই জানিয়েছেন, এখানে ২০০ জন মতো শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে ৩৮ জন জুনিয়ার শিল্পী রয়েছেন। ১৫০ এর অধিক সিনিয়র শিল্পী এখানে অংশ নিয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আমন্ত্রিত শিল্পী রয়েছেন। মূলত তাদের উপস্থিতিতে জুনিয়র শিল্পীরা এই শিল্পকলা চর্চায় অনুপ্রাণিত হবেন বলেই আশা করা যায়। জুঁই গুঁই আরও বলেন, বর্ধমানে এই ধরনের বড় মাপের কর্মশালা তারা প্রথম আয়োজন করলেন। মূল লক্ষ্য হলো এই শিল্পের চর্চার বিষয়টিকে আরও প্রসারিত করা। নবীন প্রজন্মের অঙ্কন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করা। একটা সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে সাথী হওয়া।
এই কর্মশালায় একজন প্রতিবন্ধী শিল্পীও অংশ নিয়েছেন। যিনি পায়ের সাহায্যে ছবি এঁকে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

2
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ, ফাইল, জলের বোতল তুলে দিল তৃণমূল যুব কংগ্রেস

এ বছর যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে তারা আগামী দিনে সারা রাজ্য ও দেশের মধ্যে এই জেলার মুখকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা ব্যক্ত করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রাসবিহারী হালদার। তিনি বলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুরুর দিনেই জেলাজুড়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হয়ে আগত পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। বর্ধমান শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল, ফাইল, পেন ও জলের বোতল তুলে দেওয়া হয়। রাসবিহারী বলেন, আমি নিজে এই কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম। এখানে উপস্থিত থেকে আগত পরীক্ষার্থীদের হাতে এইসব সামগ্রী তুলে দিতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। আমি আশাবাদী এই পরীক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের হাত ধরেই আগামী দিনে আমাদের সমাজ, আমাদের সভ্যতা, আমাদের রাজ্য, আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্ব দুয়ারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্থান অধিকার করে নেবে। তাই এই পরীক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার জন্যই আমাদের উপস্থিত হওয়া। আমরা খুবই আনন্দিত যে তাদের সঙ্গে আমরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মিলিত হতে পেরেছি। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও কর্মীরা এই পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাতে পেরেছেন। আমরা আশাবাদী, আমাদের এই শুভেচ্ছা ও শুভকামনা আগামীদিনে তাদের এগিয়ে চলার পথকে প্রশস্ত করবে। রাসবিহারী বলেন, আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিনই পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থেকে তাদের প্রয়োজনে সহযোগিতা করবো।

3
পরীক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে সাহায্য, ট্রাফিক কন্ট্রোলে কাউন্সিলর

মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে। আর প্রতিদিনই সকাল নটা থেকেই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে রওনা হচ্ছেন। পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হয়। আর সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে বর্ধমান শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে মিঠাপুকুর মোড়ে বিসি রোডে ট্রাফিক কন্ট্রোলে এগিয়ে এলেন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বর্ধমান পৌরসভার এমসিআইসি সুশান্ত প্রামাণিক। এই কাজে সহযোগিতা করেন ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ। চৌমাথার এই মোড়ে প্রতিদিনই যানজট হয়। তাই যানজট আটকাতে হাত লাগালেন তারা সকলেই। সুশান্ত বলেন, আমরা প্রথম পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন যাতে আগে এগিয়ে যেতে পারে সেদিকে নজর দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন একটু ধৈর্য ধরেন। কারণ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে পরীক্ষার্থীদের। সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা একটা টেনশনের মধ্যে থাকেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে নির্দিষ্ট সিটে পৌঁছনো পর্যন্ত এই টেনশনটা তাদের কাজ করে। তারা যাতে সুস্থ ও স্বাভাবিক মন নিয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে পারেন সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। শহরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাফিক কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পাশাপাশি আমরাও ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও কর্মীরা পথে নেমেছি। সুশান্তর কথায়, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় জনপ্রতিনিধিদের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। সামাজিক কর্মযজ্ঞে যুক্ত থাকতে বলেছেন। আমরা তাই সবসময় বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রেও সেই কাজটাই আমরা করেছি।

 

4
মন্দির নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বর্ধমান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম ঝিকরডাঙ্গা শাখায় মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন হল। ভাতার থানার অন্তর্গত ঝিকরডাঙ্গা রামকৃষ্ণ আশ্রম স্থাপন হয়েছে দীর্ঘ ৫০ বছর। এখানে বিভিন্ন সেবা কার্য সম্পন্ন হয়। বর্তমানে গ্রামবাসীদের আবেদনে একটি মন্দির নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে ।আজ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের সাক্ষাৎ শিষ্য শ্রীমৎ স্বামী অদ্ভুতানন্দজি মহারাজের জন্মদিবস সহ মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে এই শুভ কাজ সম্পন্ন হলো। সকাল থেকে ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পুজো হয়।বর্ধমান বাজেপ্রতাপপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম বেলুড় মঠ শাখার অধ্যক্ষ মহারাজ অজ্ঞেয়ানন্দজি এই শুভ কাজ সম্পন্ন করলেন। উপস্থিত ছিলেন ঝিকরডাঙ্গা শাখার অধ্যক্ষ স্বামী শান্তানন্দজি, স্বামী শ্যামানন্দ, বর্ধমান রাজ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তারক শেঠ, বর্ধমান উইমেন্স কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক বেলা শেঠ সহ অন্যান্য সাধু ও বিশিষ্ট মানুষজন। ঝিকরডাঙ্গা রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শান্তানন্দ মহারাজ জানালেন, অনুমান ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করা হলো। তিনি আরও বলেন, সকল ভক্তদের কাছে আবেদন আপনারা সাধ্যমতো এই মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সাহায্য করুন। সকলের সহযোগিতা কাম্য।