1
“উন্নয়নের পাঁচালি” নিয়ে বুথে বুথে প্রচার খন্ডঘোষে
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাংলার গৌরবজ্জ্বল ১৫ বছর নিয়ে “উন্নয়নের পাঁচালি” শীর্ষক একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই বই নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও কর্মীরা প্রচারে নেমেছেন। এই প্রচার কর্মসূচী চলছে পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ ব্লককেও। এ প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা খন্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠিত হয়। এই সরকার গঠনের পর থেকে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন রকম প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। নানান উন্নয়নমূলক কর্মসূচীকে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক এই কর্মযজ্ঞকে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে উন্নয়নের পাঁচালি নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। অপার্থিব বলেন, এই বই হাতে নিয়ে আমরা রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মতো খণ্ডঘোষ ব্লকের প্রতিটি বুথে বুথে মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছি। তাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে উন্নয়নমূলক কর্মসূচীগুলি কার্যকর রয়েছে সেগুলির কথা তুলে ধরছি। এই প্রকল্পগুলি যাতে সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের দিক থেকে বারবার বলা হচ্ছে। অপার্থিব বলেন, এলাকার মানুষকে আমরা আশ্বস্ত করেছি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন রয়েছেন ততদিন প্রতিটি সরকারি প্রকল্প সুরক্ষিত থাকবে। আমরা এও বলেছি, রাজ্যে যদি সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে আর পৌঁছুতে দেবে না। ফলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জন্য যে সমস্ত প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তবায়িত করেছেন তা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সাধারণ মানুষও চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠিত হোক রাজ্যে।
2
৫ দফা দাবিতে এসএফআই-এর ডেপুটেশন
শেষ হলো ২০২৫ সাল , এবার ২০২৬ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই শিক্ষাবর্ষেও অধিকাংশ স্কুলে ভর্তির ফি সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী ২৪০ টাকার থেকে অনেক অনেক গুণ অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্কুলে ভর্তির সময় স্কুলগুলোতে যে বর্ধিত ফি নেওয়া হয়েছিল, তার রশিদে স্কুল উন্নয়ন ফি’র নামে এই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছিল। কোনো কোনো স্কুলে আবার অতিরিক্ত ফি নেওয়ার উদ্দেশ্য যথাযথ ভাবে লেখা হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এসএফআই-এর পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া ও আলোচনার মাধ্যমে জানা গেছে, কম্পোজিট গ্রান্ট সহ বিভিন্ন সরকারি অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে আসছে না। ফলে স্কুল পরিচালনা করার জন্য বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত ফি নিয়েছেন। এর পাশাপাশি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত অবস্থাও তথৈবচ। স্কুলে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী। এই সময়ের মধ্যে যে ব্যাপক অংশের ছাত্রছাত্রী শিক্ষা থেকে ড্রপআউট হয়েছে অথবা সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে, তাদের সরকারি স্কুলের প্রতি আগ্রহী করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ, পরিকল্পনা নজরে আসেনি।
এই অবস্থায় সরকারি স্কুল শিক্ষাকে রক্ষা করতে প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে এসএফআই। বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ভারতের ছাত্র ফেডারেশন পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কালনা ও কাটোয়ার মহুকুমা শাসক, পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিআই-এর কাছে ৫ দফা দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। ২ রা জানুয়ারী পুনরায় ADI এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মতোই একই কায়দায় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দিয়ে বেসরকারি পুঁজির অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক সরকারি স্কুলের এই অবনমন ঘটানো হয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার পরিকল্পনা করেই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থাকে নষ্ট করে দিতে চায়। এসএফআই – এর পক্ষ থেকে বলা হয়এই পরিস্থিতিতে সরকারি শিক্ষা ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখতেই তারা আজ পথে নেমেছেন।


