হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে জামালপুরে তৃণমূলের বিজয়া সম্মেলন


1
মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনব উদ্যোগ

প্রত্যেককে বিজয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং প্রণাম জানিয়ে দশমীর হাটে বিদ্যালয়কে বিক্রি করতে উপস্থিত হলাম। প্রত্যেক বাড়িতেই আত্মীয় পরিজন ভর্তি রয়েছে ,প্রত্যেকেই প্রচুর প্রচুর প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করবেন এই হাট থেকে। সেই সুযোগে আমরাও এখানে বিদ্যালয় কে বিক্রি করতে সমবেত হয়েছি।
আসলে বিষয়টা একটু অন্যরকম – গত ২৪/৯/২০২৫ তারিখে ,মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয় জেলার সেরার সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিদ্যালয়ের এই সম্মাননা অর্জন আমরা একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করতে চাইছি। ১৯৪০ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়, ২০২৫ সালে সেরার সেরা বিদ্যালয়ের শিরোপা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শহর বর্ধমান এখান থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ৮০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে বিদ্যালয়ের সময় লেগে গেল ৮৬ বছর। অর্থাৎ প্রতিবছর এক কিলোমিটারের ও কম রাস্তা বিদ্যালয় হাঁটতে সক্ষম হয়েছে। যাঁরা এই কাজে কোন না কোন ভাবে সাথে ছিলেন ,তাঁদের প্রত্যেককে আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। প্রতিদিন এখানকার অসংগঠিত শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ যে হাটে হাট করেন, সংসারের সমস্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করেন- সেখানেই আজ বিদ্যালয় বিক্রি হলো ।উদ্দেশ্য- এলাকাবাসী যদি আরেকটু বেশি করে বিদ্যালয়মুখী হয় তার আন্তরিক আবেদন । এখানকার এই জনগোষ্ঠী তাদের ইচ্ছে থাকলেও প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফাঁকে বিদ্যালয়কে নিয়ে একটু বাড়তি ভাবনার সময় পান না, অথচ এখানেই তাদের আসল সম্পদ তৈরি হয়। যখন সন্তানের কথা ভাবার সময় ,তখন ওরা কারো জমিতে ,কারো দোকানে ,কারো বাড়িতে কাজে ব্যস্ত আর বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ব্যস্ত- ওদের ওই ফেলে যাওয়া অযত্নে পালিত হওয়া সন্তানদের সামনের দিকে এগিয়ে আনার জন্য। এই অসম লড়াই লড়তে লড়তে বিদ্যালয় ক্লান্ত। কিন্তু তবু ওই দরিদ্র ,অসংগঠিত,পরিশ্রান্ত অভিভাবক মন্ডলী কেই বিদ্যালয়ের বড় প্রয়োজন। কারণ বিদ্যালয়ের এই সাফল্য ওদের প্রত্যেকের ঘরে যদি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হয় ,তাহলে এই অযত্নে লালিত হওয়া সন্তানেরা সঠিক জায়গায় পৌঁছবে না। তাই মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ বলে জানালেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার।

2
হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে জামালপুরে তৃণমূলের বিজয়া সম্মেলন

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে আগামী বিধানসভার প্রচার শুরু হয়ে গেল। জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হালারা শেঠিয়া কোল্ড স্টোরে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় জেলার চেয়ারম্যান তথা মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরীকে। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এস বি এস টি সি-র চেয়ারম্যান তথা জেলার অন্যতম নেতা সুভাষ মন্ডল, রায়নার বিধায়ক শম্পা ধারা , জামালপুরের বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল, ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ, শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি সন্দীপ বসু,জামালপুর ব্লকের সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, জেলা পরিষদের দুই সদস্য শোভা দে ও কল্পনা সাঁতরা, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা জামালপুর ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান সহ সকল শাখা সংগঠনের সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি, প্রধান ও উপপ্রধানরা। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রথমে স্বাগত ভাষণ দিতে উঠে মেহেমুদ খান বলেন, আজকে যতজন নেতৃত্ব মঞ্চে রয়েছেন, তাঁদের মঞ্চে বসার পিছনে যাঁদের সবথেকে বেশি অবদান সেই উপস্থিত দলীয় কর্মীদের তিনি বিজয়ার শুভেচ্ছা ও প্রণাম জানান। দল তাঁর উপর আবার ভরসা রাখায় তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁদের নেতা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির প্রতি ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানান। ধন্যবাদ জানান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, তাঁদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। তিনি পুরানো দিনের কিছু স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন ব্যক্তি স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে দলের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। সকলে মিলে এক হয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবার বার্তা দেন তিনি। অপূর্ববাবু বলেন, জামালপুরে বিজয়া সম্মেলনীতে এসে তার খুব ভালো লাগছে। আজকে বিজয়া সম্মেলনীতে কর্মীদের উপস্থিতি আগামী বিধানসভায় এখানে কী ফল হবে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দিদির দূত হিসাবে এখানে এসেছেন। বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি বলেন, এই স্টোর থেকে বিধায়ক পদে প্রার্থী হিসাবে প্রথম প্রচার শুরু করেছিলেন। আজ প্রায় ৫ বছর পর সেই একই জায়গায় বিজয়া সম্মেলনী হচ্ছে। আজ সেই হাজার হাজার কর্মীদের উপস্থিতি দেখে তিনি আপ্লুত। তিনি বলেন, জামালপুর থেকে দল যাকেই প্রার্থী করুন তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। আজ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বড় হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে ব্লকের ২৬৫ টি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবার জন্য রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।