1
সাংবাদিক সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার কথা জানালেন রবীন্দ্রনাথ
১০ নভেম্বর বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান অপূর্ব চৌধুরী সহ বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কবৃন্দ। এই সভায় রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী বলেন, ২০২৫ বর্ষে জুলাই ও আগস্ট মাসে অতি বৃষ্টির কারণে বন্যাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরফলে রোয়া আমন ধান ও বীজ তলা এই জেলার বেশকিছু অংশে নষ্ট হয়ে যায়। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকের সংখ্যা ছিল ১৩ টি। আক্রান্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ছিল ৫৩ টি। আক্রান্ত পৌরসভার সংখ্যা একটি। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌজা ছিল ২০৫ টি। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আক্রান্ত বীজতলা পরিমাণ ২১০ হেক্টর। আক্রান্ত রোপণ করা ধানের এলাকা ছিল ৩৯৫৩ হেক্টর। এরফলে জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ছিল ১২০৩৬ জন। রবিবাবু জানান, কৃষকদের এই ক্ষয়ক্ষতি লাঘব করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ও জেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় জেলা কৃষি দপ্তর পুনরায় ধান রোপণের জন্য ১৮৫ জন কৃষকের হাতে সেইসময় গোবিন্দভোগের ধানের চারা সরবরাহ করে। এছাড়া ৬৩১ জন কৃষকের হাতে লালস্বর্ণ চারা সরবরাহ করে। মোট সরবরাহ করা চারার সংখ্যা হল ১৩৭২৭০ আঁটি। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুনরায় ৩২৬৮৩ একর জমিতে চাষ করতে সক্ষম হন।
এরফলে আক্রান্ত কৃষকরা যথেষ্টই উপকৃত হন। তিনি জানান, এরজন্য ১৯ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা কৃষকের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। পুনরায় চারা বীজ সরবরাহ করা ব্লকগুলি হল রায়না ১ ও ২, জামালপুর, খন্ডঘোষ, কেতুগ্রাম ১ ইত্যাদি। তিনি বলেন, এইভাবে রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে থেকে সবরকম ভাবে তাদের সহযোগিতা করে চলেছে।
2
কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সাইক্লোথন
এবার এক অভিনব উদ্যোগ সফল হলো। ৯ই নভেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো দেশের পূর্বাঞ্চলের সবথেকে বড় সাইক্লোথন। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে কোল ইন্ডিয়া ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তর অধীনস্থ স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া এবং ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের সহযোগিতায় এই সাইক্লোথন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের স্কুল, কলেজ ও ক্লাব থেকে প্রায় ৪০০০ প্রতিযোগী অংশ নেয়। তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের “বর্ধমান শ্রী রামাশীষ হিন্দি হাইস্কুল” ও “পূর্ব বর্ধমান সাইক্লিং ক্লাব” যথাক্রমে সর্বোচ্চ প্রতিযোগী স্কুল ও ক্লাব বিভাগে সেরা হয়। উক্ত স্কুলের একদশ শ্রেণীর ছাত্রী জিয়া রায় ৫ কিলোমিটার মহিলা বিভাগে তৃতীয় স্থান পায়। শক্তিগড় অ্যাডভান্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, শরৎ সেন্টেনারি কলেজ ও পোলবা মহাবিদ্যালয় বিশেষ পরিমাণ প্রতিযোগী নিয়ে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে সম্মানীত হয় বলে আয়োজকদের তরফে সন্দীপন সরকার জানান। এদিন বর্ধমানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে উক্ত ম্যারাথন চলাকালীন প্রাণী অত্যাচার রোধে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্ভিজ খাবারের গুরুত্ব বোঝাতে সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়। উপস্থিত ছিলেন লিয়েন্ডার পেজ, উষা উত্থুপ , অনিন্দ্য চ্যাটার্জী সহ বিশিষ্টরা। তারা সকলেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সন্দীপন জানান, ভবিষ্যতে আবারও এই ধরনের সাইক্লোথন অনুষ্ঠিত হবে।
3
বর্ধমান ডেন্টাল কলেজে চালু হলো বয়স্কদের জন্য আলাদা পরিষেবা ব্যবস্থা
বর্ধমান ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে বয়স্ক নাগরিকদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা কার্যকর হলো। ১১ নভেম্বর এখানে বয়স্কদের জন্য আলাদা ওপিডি ইউনিটের সূচনা হলো। এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস। উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপালসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ। ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ। এ প্রসঙ্গে খোকন দাস জানান, বর্ধমান ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে বয়স্ক নাগরিকদের সুবিধার্থে এই আলাদা ইউনিটটি চালু হলো। তারা আউটডোর পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে বুকিং করতে পারবেন। তাদের হাসপাতালে এসে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। সরাসরি এই ইউনিটে প্রবেশ করে চিকিৎসা করাতে পারবেন। এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে এই ধরনের একটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হলো। এরজন্য তিনি উপস্থিত প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান। খোকন দাস বলেন, বয়স্ক নাগরিকদের কথা আমাদের সবসময় চিন্তা করা উচিত। কারণ তাদের অনেকেরই পরিবারে কেউ থাকেন না। তাদের অনেকের পক্ষেই লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তাই এই পরিষেবা ব্যবস্থায় তারা যথেষ্ট উপকৃত হবেন এই আশা রাখছি।


