তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন I বর্ধমান চেম্বার অফ কমার্সের সভা সংস্কৃতিতে I নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রায়নায় রক্তদান উৎসব


1
তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন

পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিবস পালন করা হলো। ১১ই জ্যৈষ্ঠ স্থানীয় সিধু কানু ময়দানে এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝি, জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মন্ডল।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জেলাশাসক আয়েশা রাণী এ কাজী নজরুল ইসলামের মতো মণীষীদের কেন স্মরণ করা প্রয়োজন সে কথা সংক্ষেপে বলেন। এর পাশাপাশি তিনি এদিন উপস্থিত শিশু শিল্পীদের হাতে কাজী নজরুল ইসলামের একটি করে প্রতিকৃতি তুলে দেন।

বিধায়ক খোকন দাস বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম তার সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাংলা তথা গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টি বিশ্ব দুয়ারে আমাদের একটা স্থান করে দিয়েছে। এই ধরনের মণীষীদের আমাদের সবসময় স্মরণ করতে হবে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। সেই কাজটাই এখানে করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। (পজ্)

জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মন্ডল জানান, প্রতিবছরই এই দপ্তরের উদ্যোগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের মতো মণীষীদের জন্মদিবস অত্যন্ত শ্রদ্ধা সহকারে পালন করা হয়। স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এদিন সিধু কানু মঞ্চ।

2
বর্ধমান চেম্বার অফ কমার্সের সভা সংস্কৃতিতে

বর্ধমান চেম্বার অব কমার্সের পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা নেওয়া হলো। আর এই উপলক্ষ্যে স্থানীয় সংস্কৃতি লোকমঞ্চে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস। এদিনের সভার আহ্বায়ক ছিলেন রাজকুমার সাহানা, শীর্ষেন্দু সাধু, সুব্রত মন্ডল, বিশ্বনাথ দত্ত ও শান্তনু দত্ত। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। এই সভায় খোকন দাস বলেন, বর্ধমান চেম্বার অফ কমার্স বহুদিন আগেই গঠন করা হয়েছিল। একসময় এর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন দেবনারায়ণ মন্ডল ও শ্যামসুন্দর পাল। তবে পরবর্তী পর্যায়ে এই সংগঠনের কার্যকলাপ স্তিমিত হয়ে যায়। তবে এই ধরনের একটি সংগঠন পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জেলা সফর করেন তখন এখানে চেম্বার অফ কমার্সের সঙ্গে তিনি কথা বলতে চান। তাই এই ব্যবসায়িক সংগঠনের অস্তিত্ব ও সক্রিয়তা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের সঙ্গেই যোগসূত্র স্থাপন করা সম্ভব। তাই এই সংগঠনকে আবার সক্রিয় করে তোলার কাজ শুরু হলো বলে উল্লেখ করেন বিধায়ক।

3
নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রায়নায় রক্তদান উৎসব

জান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রায়না ১ অঞ্চলের দোলুইবাজারে এই উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করা হয়। কবির আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবির নাতনি সোনালী কাজী। উপস্থিত ছিলেন ডা কলিমুদ্দিন হক, জিন্না আলী, জামালপুরের বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, রায়না ১ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বামদেব মন্ডল, জামালপুরের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, আব্বাস সাহেব,বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা সমাজসেবী সফিকুল ইসলাম সহ সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক হাফিজুর রহমান জানান, আজকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ তারা করছেন। প্রায় ৫০০ জন রক্তদাতা রক্ত দেন। তাদের এই রক্তদান উৎসবে এর পাশাপাশি ১০০ টি চারাগাছ রোপণ, ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া, ৫০ জন বিধবা মাকে বস্ত্র উপহার, ৩০ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সম্মাননা, ৩০ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১০ জন বাউল শিল্পীকে সম্মাননা ও ১০ জন বিশিষ্ট সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, এই প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের রক্ত বিশেষ কাজে লাগবে। এই রক্ত বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।

মেহেমুদ খান বলেন, এখানে আসতে পেরে তার খুবই ভালো লাগছে। তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য জান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে তিনি ধন্যবাদ জানান। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের জন্মদিনে তারা এক মহৎ কাজ করে দেখালো। মেহেমুদ খান বলেন, এইভাবেই জান ফাউন্ডেশন তাদের সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে আরও এগিয়ে যাবে। তাঁর শুভ কামনা সবসময় তাদের সঙ্গে থাকবে।