খণ্ডঘোষে তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দলের অভ্যন্তরে


খণ্ডঘোষে তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দলের অভ্যন্তরে

১৭ মার্চ কলকাতায় তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব ২৯১ টি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে প্রার্থী করা হয় পুনরায় বর্তমান বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগকে। তার নাম ঘোষণা করার পরপরই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে খণ্ডঘোষ ব্লকজুড়ে। দলের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনাবিল ইসলাম সহ এই ব্লকের ছটি অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতিরা একযোগে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। প্রায় দশ হাজার দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে বারবারই নবীনচন্দ্র বাগের প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। এ প্রসঙ্গে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে কোনোরকম কথা না বলেই দলের পক্ষ থেকে বিধায়কের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আবারও তাকে প্রার্থী করা হচ্ছে। যা এখানকার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। অপার্থিব বলেন, তিনি ভোটে জেতার পর থেকে ক্রমাগত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসহযোগিতা করে গেছেন, খারাপ আচরণ করেছেন। তিনি সিপিএমের সঙ্গে গাদ্দারি করে তৃণমূলে এসেছেন। ইতিপূর্বেই তাকে দুবার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট দেওয়া হয়েছে, এবার আবার তৃতীয়বারের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়ার সম্ভব নয়। আমরা যারা তৃণমূল স্তরে কাজ করি, তারা জানি এই ব্যক্তি সম্পর্কে এলাকার মানুষরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ফলে এই প্রার্থীকে মেনে নিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের প্রতারণা করা হবে। যেটা আমরা কোনোভাবেই করতে পারব না। আমরা তাই আমাদের সমস্ত পদ ছেড়ে দিয়ে দল থেকে বেরিয়ে আসছি। অন্য কোনো দলে আমরা যাব না। আমরা চুপচাপ সাধারণ মানুষ হিসেবে বসে থাকবো। (পজ্)

বিশ্বনাথ রায় বলেন, এই প্রার্থীকে মেনে নেওয়ার সম্ভব নয়। এলাকার মানুষ বারবার আমাদের বলেছেন বিধায়ক যেন বদল হয়। কিন্তু দলের রাজ্য নেতৃত্ব কেন এই বিষয়টিতে কর্ণপাত করলেন না আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা তাই এখানে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমস্ত পদ ত্যাগ করে দল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। (পজ্)

অনাবিল ইসলাম বলেন, আমরা যারা তৃণমূল কংগ্রেস করি, দলটাকে মন থেকে ভালবাসি, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা চাহিদার কথা উপলব্ধি করি, তারা জানি নবীনচন্দ্র বাগকে এখানকার মানুষ কোনোভাবেই আর মেনে নেবেন না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আমরা প্রতারণা করতে পারব না। তাই দল থেকে বেরিয়ে এসে আমরা চুপচাপ বসে থাকবো। অন্য কোনো দল করবো না কিন্তু এই প্রার্থীকে আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিন দলের কর্মীরা বারবার নবীনচন্দ্র বাগের বিরোধিতা করে স্লোগানও দেন।