এক ঝাঁক প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ‘ রাস ‘ এর উদ্বোধন হলো পূর্ব বর্ধমানের শ্রীরামপুরে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের একটি বাৎসরিক উৎসব হচ্ছে ‘ রাস ‘ । ‘ রাস ‘ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের সর্বোত্তম মধুর ‘রস’। এই ‘ রস ‘থেকেই এসেছে ‘ রাস ‘। আর ‘ লীলা ‘শব্দের অর্থ খেলা। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধা ও তাদের সখীদের লীলা খেলা হচ্ছে রাসলীলা। বাংলায় শ্রীচৈতন্যদেবের রাস উৎসব পালনের কথা উল্লেখ আছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময়ের পরে বাংলায় রাস উৎসবের বহুল প্রচলন ঘটে। বৃন্দাবন, মথুরা ,অসম, মণিপুর, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে আরম্বরের সঙ্গে রাস উৎসব পালন করা হয়। রাধা কৃষ্ণের আরাধনাই রাসের মূল বিষয় হলেও অঞ্চল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে বিভিন্ন দেবদেবীর আরাধনাও করা হয় এই রাস উৎসবে।
গতকাল রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের শ্রীরামপুরে ৮২ টি রাস পূজা কমিটির পুজোর উদ্বোধন হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ,জেলাশাসক পূর্ব বর্ধমান আয়েশা রাণী এ , এসপি পূর্ব বর্ধমান সায়ক দাস, রামশঙ্কর মন্ডল ডিআইসিও পূর্ব বর্ধমান, কালনার মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল, রাকেশ চৌধুরী মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সঞ্জয় সেনাপতি, নাদনঘাট থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আরতি খান সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে রাসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই মঞ্চ থেকে শ্রী শ্রী গঙ্গা মাতা পুজো কমিটির উদ্যোগে দুঃস্থ মানুষদের শীতবস্ত্র এবং বাচ্চাদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে আদিবাসী মহিলা ও পুরুষদের ধান কাটার জন্য কাস্তে দেওয়া হয়। বহু মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এই উদ্বোধনী পর্বে।
বুধবার রাজ্যের তিনটি সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। এদিন তিনি আরামবাগ হাসপাতাল, রামপুরহাট হাসপাতাল এবং বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রাণী, জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস, বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দোপাধ্যায়, হাসপাতালে সুপার তাপস ঘোষ প্রমুখ। এছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলও। এদিন জেলাশাসক দপ্তরে বৈঠক শেষে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎবাবু। এখানে তিনি হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, পুলিশ ক্যাম্প, সার্জারি বিভাগ সবই ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন। পরে সুরজিৎবাবু বলেন, এই হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্ত বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রশাসনের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থার বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


